কলকাতা : মে ও জুন মাসের প্রথম ১০ দিনের  বৃষ্টি আদৌ বর্ষার বৃষ্টি নয়। বরং একে বলা যেতে পারে প্রাক বর্ষার বৃষ্টিই। আর এর ফলে আবহাওয়া বা তাপমাত্রায় সাময়িক পরিবর্তন হলেও, স্থায়ী পরিবর্তন ঘটে না। আর কলকাতার মতো শহরে বৃষ্টি-বাদলায় তাপমাত্রা সাময়িক কমে গেলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তীব্র গরম ফিরতে পারে। একেবারে চড়চড়ে রোদ ওঠে। ঝড়বৃষ্টির সময় তাপমাত্রা ৫-৬ ডিগ্রি কমে গেলও, কিছুক্ষণের মধ্যেই ফের গরম শুরু হয়ে যাবে। তাছাড়া কলকাতায় আসল তাপমাত্রা ও  যা তাপমাত্রা অনুভূত হয়, তার মধ্যে ব্যাপক ফারাক। কলকাতায় আসল তাপমাত্রার থেকে অনুভূত তাপমাত্রা অনেকটাই বেশি। এর পিছনে কয়েকটি কারণ আছে । প্রথমত - কলকাতা একটা পলিউশন বাবলের মধ্যে অবস্থান করছে, যা পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত ঘটনায় বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানালেন, আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। 

Continues below advertisement
  • কলকাতা এখন কংক্রিটের জঙ্গল। গাছপালার পরিমাণ ক্রমেই কমছে। ফলে তাপমাত্রা অনেকটা বেশি থাকে। 
  • কলকাতা এবং আরও কিছু শহর, পলিউশন বাবলের মধ্যে থাকে। যখন ঝড় আসে বা কালবৈশাখী আসে, তখন জেলায় ঝড়ের দাপট বেশি হলেও, কলকাতায় তার থেকে ঝড়ের দাপট কম থাকে। এর কারণই হল পলিউশন। কলকাতা পলিউশন বাবলে থাকার জন্য ঝড়বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকলেও যথেষ্ট বৃষ্টি হয় না। 
  • গত কয়েক বছরের হিসেব বলছে, কলকাতায় ঝড়বৃষ্টির দাপট বেশি দেখা যায় ছুটির দিন, যেদিন দূষণের মাত্রা অপেক্ষাকৃত কম থাকে। 
  • কালবৈশাখীর উৎসটা পশ্চিম দিকে। কলকাতার পশ্চিমাঞ্চলে হুগলি ও উত্তর ২৪ পরগনা। এই দুই অঞ্চলে আগে যথেষ্ট গাছপালা ছিল। কিন্তু এখন সেখানে সবুজ অনেক কমে গিয়েছে। সেই সঙ্গে দোসর হয় কলকাতার দূষণ। এই দুইয়ের সংযোগে পূর্বাভাস অনুসারে যথেষ্ট বৃষ্টি হয় না।  
  • তাই বৃষ্টিপাত ঘটানোর মতো মেঘ কলকাতায় বৃষ্টি ঘটানোর অনুকূল পরিবেশ পায় না। আবার কলকাতা পেরিয়ে বাসন্তী ও সুন্দরবনের দিকে বেশি বৃষ্টি ঘটায়। 
  • আগামী কয়েকদিন দক্ষিণবঙ্গে বারবার বিক্ষিপ্ত, স্বল্প সময়ের স্থানীয় ঝড়বৃষ্টির পরিস্থিতি তৈরি হবে। তবে কলকাতা কতটা ভিজবে তা অনেক কিছুর উপরই ডিপেন্ড করে। 
  • আগামী ১০ থেকে ১৫ দিন টানা গরমই চলবে। এর মধ্যে বার কয়েক ঝমঝমিয়ে বৃষ্টি হলেও গরম কমবে না। 
  • এই সময় সতর্ক থাকতে হবে শুকনো মেঘে বজ্রপাত নিয়েও। তাই বৃষ্টির ছিটেফোঁটা শুরু হলেই ঘরে আশ্রয় নিতে হবে। এই বজ্রপাত সরাসরি মাটির উপর হয়, তাই বড় বিপদ হতে পারে। 
  • এই সময় আর্দ্র মৌসুমী বায়ু ও শুকনো পশ্চিমা বায়ুর সংঘর্ষে পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় হঠাৎ বজ্রপাত, বৃষ্টি ও দুর্যোগ হতে পারে। যার পূর্বাভাস করা কঠিন হয়ে যায়। 
  • বর্ষা ঢুকতে এখনও অনেকটাই দেরি। আন্দামান নিকোবরে বর্ষা আগেভাগে এলেও , নানা পরিস্থিতির কারণে কেরলে ঢুকতেও দেরি হবে। জুনের ১৫ তারিখের আগে দক্ষিণবঙ্গে বর্ষা হবে না। 
    রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা

     

                       
 

 

Continues below advertisement