সৌভিক মজুমদার, মনোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, গৌতম মণ্ডল, ঝিলম করঞ্জাই, কলকাতা : পুজোয় বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও আনন্দ মাটি করেনি প্রকৃতি। কিন্তু একাদশী-দ্বাদশীতে বাংলাজুড়ে দুর্যোগের পূর্বাভাস দিল আবহাওয়া দফতর। শুক্রবার দিনভর উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

Continues below advertisement


শুক্রবার বাঁকুড়া, বীরভূম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলিতে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি হতে পারে কলকাতায়। বৃষ্টির সঙ্গে চলবে ঝোড়ো হাওয়া। ঘণ্টায় ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে হাওয়া বইতে পারে।


৩ অক্টোবরের আবহাওয়ার পূর্বাভাস


দক্ষিণবঙ্গের বীরভূম জেলার এক বা দুটি স্থানে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত (০৭-২০ সেমি) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গের পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মুর্শিদাবাদ, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান এবং বাঁকুড়া জেলায় এক বা দুটি স্থানে ভারী বৃষ্টিপাত (০৭-১১ সেমি) হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়াও, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর এবং দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় এক বা দুটি স্থানে ঝোড়ো হাওয়া (৪০-৫০ কিমি প্রতি ঘন্টা) এবং বজ্রপাত সহ বজ্রপাত হতে পারে। দক্ষিণবঙ্গের বাকি জেলাগুলিতে এক বা দুটি স্থানে ঝড়ো হাওয়া (৩০-৪০ কিমি প্রতি ঘন্টা) এবং  বজ্রপাত হতে পারে। 


অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি এবং আলিপুরদুয়ার জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত (০৭-২০ সেমি) হতে পারে। উত্তরবঙ্গের কালিম্পং, কোচবিহার এবং উত্তর দিনাজপুর জেলার এক বা দুটি জায়গায় ভারী বৃষ্টিপাত (০৭-১১ সেমি) হতে পারে। উত্তরবঙ্গের সমস্ত জেলায় এক বা দুটি জায়গায় ঝড়ো হাওয়া (৩০-৪০ কিমি প্রতি ঘন্টা) এবং বজ্রপাত সহ ঝড়ো হাওয়া (১৫-১৬ কিমি প্রতি ঘন্টা) বইতে পারে।


আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৬টা থেকে সন্ধে সাড়ে ৬টা পর্যন্ত কলকাতায় বৃষ্টি হয়েছে ২৯ মিলিমিটার এবং গতকাল সাড়ে ৬টা থেকে আজ সকাল সাড়ে আটটা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ২৬ মিলিমিটার। আবহাওয়া দফতর সূত্রে খবর, দক্ষিণবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ কমবে এবং উত্তরবঙ্গে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। উত্তরবঙ্গে ভূমি ধসের আশঙ্কা রয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস থাকায় আগামীকাল পর্যন্ত মৎস্যজীবীদের সমুদ্রে যেতে নিষেধ করা হয়েছে।


সুন্দরবন এলাকায় সকাল থেকে মেঘলা আকাশ। ঝোড়ো হাওয়া বইছে এলাকা।  ঝাড়খণ্ডে অতিবৃষ্টির কারণে মাইথন ও পাঞ্চেত জলাধার থেকে ৩২ হাজার ৫০০ কিউসেক করে জল ছেড়েছে ডিভিসি। যারফলে রাজ্যজুড়ে বৃষ্টির পূর্বাভাসের মধ্যেই দুর্গাপুর ব্যারেজ থেকে জল ছাড়ল রাজ্য সরকারের সেচ দফতর। আজ সকাল সাতটার পর থেকে ৫৯ হাজার কিউসেক হারে জল ছাড়া হয়েছে বলে খবর সেচ দফতর সূত্রে। এরফলে নিচু এলাকায় জল জমার আশঙ্কা রয়েছে।