কলকাতা: কারও একমাত্র ছেলে চাকরির খোঁজে চলে গিয়েছেন ভিনরাজ্যে। কেউ আবার গ্যাঁটের কড়ি খসিয়ে ফর্ম ফিল আপ করে একের পর এক প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসছেন, কিন্তু ভাঁড়ে মা ভবানী। বেকারদের জন্য রাজ্য সরকারের নতুন প্রকল্প 'বাংলার যুব সাথী'-ই এখন ভরসা তাঁদের।

Continues below advertisement

৫ ফেব্রুয়ারি, রাজ্য সরকারের অন্তর্বর্তী বাজেটে নতুন প্রকল্পের ঘোষণা করেন অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। 'বাংলার যুব সাথী' নামে এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন ন্যূনতম মাধ্যমিক উত্তীর্ণরা। প্রতি মাসে ১ হাজার ৫০০ টাকা করে এই 'বেকার ভাতা' পাওয়া যাবে ৫ বছরের জন্য।

রবিবার থেকে শুরু হয়েছে আবেদন জমা দেওয়ার ক্যাম্প। কিন্তু এই ভাতা নিতে লাইনে দাঁড়াচ্ছেন কারা? কেউ ভবিষ্যতের ডাক্তার, কেউ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি নিয়ে লেখাপড়া করছেন, কেউ মাস্টার ডিগ্রিতে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট! তাঁদের মধ্যেই একজন হলেন, বেহালা পূর্বের বাসিন্দা সপ্তর্ষি ঘোষ। স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়, সব পরীক্ষায় অন্যতম সেরা ফল করেছেন। কিন্তু চাকরি না মেলায় মাকে সঙ্গে নিয়ে এসে দাঁড়িয়েছেন বেকার ভাতার লাইনে।                                                                 

Continues below advertisement

অভিভাবক বলেন, 'ছেলে ফার্স্ট ক্লাস পাওয়া। মাধ্যমিকে স্টার, উচ্চ মাধ্যমিকে লেটার, ডিগ্রি কোর্সে ফার্স্ট ক্লাস, মাস্টার ডিগ্রিতে ফার্স্ট ক্লাস। কোনওটাতেই কিছু হয়নি। সরকারি প্রকল্প নিতে তো অসুবিধা নেই।'                               

কোচবিহারে আবার দেখা গেল, ডাক্তারি পড়ুয়ার মা দাঁড়িয়েছেন বেকার ভাতার লাইনে। ছেলে শুভ্রনীল দে ভর্তি হয়েছেন হলদিয়া বিসি রায় মেডিক্যাল কলেজে। ছেলের হয়ে মা ক্যাম্পে এসে সংগ্রহ করলেন যুব সাথী প্রকল্পের ফর্ম।

ভোটের আগে 'যুব সাথী' প্রকল্প চালু নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। কিন্তু সরকারি ভাতার উপর আর কত দিন ভরসা করতে থাকতে হবে রাজ্যের শিক্ষিত যুবক-যুবতীদের? রবিবার থেকেই শুরু হল নতুন রাজ্য সরকারি প্রকল্প 'বাংলার যুব সাথী'র ফর্ম বিলি। জেলায় জেলায় নাম রেজিস্ট্রেশনের জন্য দেখা গেল লম্বা লাইন। তবে অনেকেই বলছেন, ভাতার বদলে কর্মসংস্থানে জোর দিক সরকার।