কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অন্যতম জনপ্রিয় প্রকল্প Yuva Sathi Scheme নিয়ে নতুন করে বড় আপডেট সামনে এসেছে। এই প্রকল্পে আবেদন করার পরেও আর্থিক সহায়তা অ্যাকাউন্টে না আসায় অনেকেই চিন্তায় ছিলেন। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যোগ্য বেকার যুবক-যুবতীদের প্রতি মাসে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। রিপোর্ট অনুযায়ী, এই ভাতা প্রায় ১৫০০ টাকা, যা সরাসরি DBT (Direct Benefit Transfer)-এর মাধ্যমে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পৌঁছায়।

Continues below advertisement

রাজ্যের বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় উদ্যোগ হল যুবসাথী প্রকল্প। এবার সেই অপেক্ষার অবসান ঘটাতে সরাসরি মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, আটকে থাকা টাকা খুব দ্রুত সুবিধাভোগীদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে এবং এর জন্য প্রশাসনিক স্তরে জোরকদমে কাজ চলছে।

টাকা আটকে থাকার মূল কারণ

Continues below advertisement

আবেদনকারীদের মনে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জেগেছে যে, কেন এই আর্থিক সহায়তা পেতে দেরি হচ্ছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী মূলত তিনটি কারণে এই বিলম্ব ঘটেছে:

তথ্যের গরমিল: সরকারি নথির সাথে আবেদনকারীর দেওয়া তথ্যের অসামঞ্জস্য থাকার কারণে বহু ফাইল আটকে যায়, যাকে প্রশাসনিক ভাষায় ‘মিসম্যাচ’ বলা হচ্ছে।

ট্রেজারির সমস্যা: রাজ্য সরকারের ট্রেজারিতে কিছু অভ্যন্তরীণ জটিলতার জেরে সাময়িকভাবে ফান্ড রিলিজ করার প্রক্রিয়া ধীর হয়ে গিয়েছিল।

যাচাইকরণের কাজ: নতুন এবং পুরনো প্রচুর আবেদনের ভেরিফিকেশন বা যাচাইকরণ পর্ব এখনও চলছে, যার ফলে অনেকটাই সময় ব্যয় হচ্ছে।

সুবিধাভোগীদের এখন কী করণীয়?

যেহেতু বর্তমানে অনলাইনে সরাসরি স্ট্যাটাস চেক করার কোনো ব্যবস্থা নেই, তাই আবেদনকারীদের ধৈর্য ধরতে বলা হয়েছে। তবে সুখবর হলো, ট্রেজারি থেকে সুবিধাভোগীদের মোবাইল নম্বরে ইতিমধ্যেই এসএমএস পাঠানো শুরু হয়েছে। এর অর্থ হল, টাকা ছাড়ার প্রক্রিয়া ফের গতি পেয়েছে। তাই নিয়মিত নিজের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং মোবাইলের ইনবক্স চেক করা অত্যন্ত জরুরি।

প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, এই মার্চ মাস জুড়েই ধাপে ধাপে বকেয়া টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা দেওয়ার কাজ চলবে। সুতরাং, যাদের তথ্যে কোনো ভুল নেই, তারা খুব শীঘ্রই এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন।

পাণ্ডবেশ্বরের জনসভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী যুব সাথী নিয়ে বলেন, যুব সাথীর টাকা সবাইকেই দেওয়া হচ্ছে। নির্ধারিত যোগ্যতা অনুযায়ী কিছুটা প্রক্রিয়া এখনও বাকি আছে, সেটা চলছে — এবং সবাই টাকা পেয়ে যাবেন। এই একটি বার্তাই এখন রাজ্যের কোটি কোটি তরুণ-তরুণীর জন্য সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবর। কারণ এতে পরিষ্কার হয়ে গেল — যাদের টাকা দেরিতে আসছে, তাদের আবেদন বাতিল হয়নি। শুধু প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলছে।