সোমনাথ দাস, রামজীবনপুর(পশ্চিম মেদিনীপুর) : তিনি বিজেপি করেন। সেই 'অপরাধে' তাঁকে কাজ থেকে অপসারিত করা হয়েছে। তৃণমূল পরিচালিত রামজীবনপুর পুরসভার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তুললেন স্থানীয় বাসিন্দা চন্দন পন্ডা। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে কাজ ফিরে পাওয়ার আবেদন জানিয়েছেন বিজেপি সমর্থক ওই পরিবারের সদস্যরা।

পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার চন্দ্রকোনা ১ ব্লকের রামজীবনপুর পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ড বনপুর এলাকার বাসিন্দা চন্দন পন্ডা। স্বামী, স্ত্রী ও ছেলে-মেয়েকে নিয়ে সংসার। জমি-জায়গাও বিশেষ কিছু নেই। ২০১৪ সাল থেকে রামজীবনপুর পুরসভায় ডেইলি-রেটেড ওয়ার্কার হিসাবে বৃক্ষরোপণের কাজে নিযুক্ত হন। দীর্ঘদিন পুরসভায় কাজ করার ফলে প্রভিডেন্ট ফান্ডের মতো সুবিধাও পেতেন। 

একুশের বিধানসভা নির্বাচনের সময় বিজেপির সক্রিয় কর্মী হিসাবে একাধিক মিটিংয়ে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যায় চন্দন পন্ডাকে। ভোট মিটতেই ২ মে ফলাফল ঘোষণার পর কোনও কারণ না দেখিয়ে পুরসভার কাজে যেতে নিষেধ করা হয় তাঁকে। এমনই অভিযোগ তুলেছেন চন্দনবাবু ও তাঁর পরিবার। কাজে যোগ দিতে চেয়ে পুরসভায় ঘুরলেও তাঁকে কাজে যোগ দিতে দেওয়া হয়নি। কাজ হারিয়ে একরকম পথে বসেছে দিন আনা দিন খাওয়া এই পরিবার।

তাঁদের অভিযোগ, শুধুমাত্র বিজেপি করার 'অপরাধে' পুর প্রশাসক নির্মল চৌধুরী তাঁর কাজ কেড়ে নিয়েছে। রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ এনেছে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রামজীবনপুর পুরসভার প্রশাসক তথা তৃণমূল নেতা নির্মল চৌধুরী। তাঁর দাবি, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। দলমত নির্বিশেষে মানুষকে কাজ দেওয়া হয় পুরসভায়। চন্দন পন্ডা একজন ডেইলি রেটেড ওয়ার্কার। নিয়মিত কাজে আসতেন না। অধিকাংশ দিন অনুপস্থিত থাকেন। অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন পুর প্রশাসক। 

একই বক্তব্য রামজীবনপুর তৃণমূল নেতৃত্বেরও। রাজনৈতিক তরজা যা-ই থাকুক না কেন, এই পরিবারের এখন একটাই দাবি, অবিলম্বে কাজ ফিরিয়ে দেওয়া হোক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিক তাঁদের দিকে, এই প্রত্যাশাতেই এখন দিন গুনছেন রামজীবনপুরের এই পন্ডা পরিবার।