কলকাতা : ভোটের আগে, যুব সাথীর মতো প্রকল্প ঘোষণা করেছে রাজ্য় সরকার। যেখানে, ১লা এপ্রিল থেকে, বেকার যুবক-যুবতীদের অ্য়াকাউন্টে ঢুকবে দেড় হাজার টাকা। কিন্তু, আবেদনকারীদের একাংশই বলছে, ভাতা দিয়ে হয়তো সাময়িক কিছু সুরাহা হবে, চাই স্থায়ী চাকরি।
আরও পড়ুন, কমিশনের নির্দেশ মেনেছিলেন ? সাসপেন্ড করল কেন ? উত্তরে কী বলছেন ময়নাগুড়ির AERO ডালিয়া রায়চৌধুরি
"ভাতা দিয়ে সাময়িক চলবে, লংটাইমে নয়.."
যুবসাথীর আবেদনকারী বাঁশদ্রোণীর বাসিন্দা প্রীতম দত্ত বললেন, 'আপাতত যদি এটা এপ্রিল মাস থেকে স্টার্ট হয়ে যায়, একটা হেল্প তো হবেই। আমি আপাতত তো কিছু করছি না। পড়াশোনা করছি। আমার গ্র্যাজুয়েশন কমপ্লিট হয়ে গিয়েছে। এখনও চেষ্টা চালাচ্ছি। টিউশন আছে। এইটা দিলে একটা ব্যাকসাপোর্ট হয়ে যাবে। কর্মসংস্থান হোক, এটাই চাইছি। কর্মসংস্থানে আরও ভ্যাকেন্সি আসুক। ভাতা দিয়ে সাময়িক চলবে। লংটাইমে তো চলবে না। লংটাইমে চাকরির কোনও বিকল্প নেই।'
" লকডাউনে তো অনেকেরই তো চাকরি চলে গিয়েছে....আমরা অবশ্যই বেনিফিটেড থাকব"
যুবসাথীর আবেদনকারী গড়িয়ার বাসিন্দা অমিত দাস বলেন,' জমা দিচ্ছি, দেখা যাক। এবার সরকারি প্রকল্প অনুযায়ী, যেরকম প্রসেস হবে, আমরা সেই অনুযায়ী বেনিফিটেড থাকব। আমাদের এই মুহূর্তে কর্মসংস্থানের অবস্থা যা, সরকারের এই প্রকল্প অনেকটাই হেল্প করবে আমাদের। এটাই আশাই করছি। এই মুহূর্তে সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। লকডাউনে তো অনেকেরই তো চাকরি চলে গিয়েছে। ..সেই তুলনায় আমাদের এই ধরণের প্রকল্প যদি হয়, তো আমরা অবশ্যই বেনিফিটেড থাকব। তো একটা সাপোর্ট রইল সরকারের তরফ থেকে। .সেক্ষেত্রে কর্মসংস্থান এটা অবশ্যই এটা বেটার করবে। কারণ এটা তো আর পুরোপুরি একটা মানুষকে হেল্প করতে পারে না।'
আরও ভাল কিছুও হতে পারতো : ডোমকলের বাসিন্দা উদিতা সরকার
যুবসাথীর আবেদনকারী ডোমকলের বাসিন্দা উদিতা সরকার বলেন, 'দিচ্ছে সরকার, নিচ্ছি। আমি এটার ভাল দিক, খারাপ দিক নিয়ে কিছু বলতে চাই না। কিন্তু আমার অধিকার, সরকারি একটা প্রকল্প, তাই নিচ্ছি। যাদের অসুবিধা, তাঁদের জন্য অবশ্যই ভাল। কিন্তু আমার মনে হয় না, তাতে তাঁদের কতটা সুবিধা হল ? ...আরও ভাল কিছুও হতে পারতো। ঠিক আছে, যা হয়েছে, অ্যাপ্লাই করছি।'
সন্তান আসেনি কেন ফর্ম তুলতে ? " হয়তো তাঁর বিবেকে লাগছে..", বললেন এমএসসি বিএড করা সন্তানের বাবা
সন্তান আসেনি কেন ফর্ম তুলতে ? কারণ বলতে গিয়ে দূরে তাঁকালেন, চাপা কষ্ট ঢেকে অমায়িক হাসি প্রবীণ নাগরিকের ! বললেন, আসেনি কেন সেটা বলা মুশকিল। হয়তো তাঁর বিবেকে লাগছে ! যে লাইনে দাঁড়িয়ে ...এমএসসি বিএড করেছে। বসে আছে। চাকরি বাকরি পাচ্ছে না। যা পাওয়া যায় তাই..। চাকরি অবশ্যই দরকার। আমি সার্ভিস করতাম, রিটায়ার্ড এখন। সেই হিসেবে চাকরি অবশ্যই একটা দরকার। সে এল না, বলল তুমি নিয়ে এসো। বর্তমান যুগে কোনও বাবা কি বেকার ভাতা নেওয়ার জন্য খুশি হয় ? এটা কি সম্ভব ? যা পেলে কিছু তো..হাত খরচা তো চলবে।
"ভোটের আগে....সন্তুষ্ট করা যাকে বলে"
যুবসাথীর আবেদনকারী বাঁকুড়ার বাসিন্দা পিণ্টু মণ্ডল বলেন, 'এইটা আমি, দায়ে পড়ে এসেছি, আরকি ! মানে যাতে কিছুটা সাহায্য হয়, এই জন্য। এটা ভোটের আগে এদের.., সন্তুষ্ট করা যাকে বলে। হাতে কিছু ১৫০০ টাকা দিয়ে, সন্তুষ্ট করছে, ভোট চাইছে মানুষের থেকে। আমরা চাইছি যাতে, আমরা এইচএস পাশ ছেলে, সেহেতু রাজ্যের মধ্যে কোনও একটা চাকরি, ..নিম্নমানের কিছু একটা চাকরি পেলেও ভাল হয়।'
