কলকাতা: রাজ্য সরকারের যুব সাথী প্রকল্পের ক্যাম্পে বিজেপি নেত্রী! বরাবাজার ব্লকের শিবিরে বান্দোয়ানের মণ্ডল-২-এর বিজেপির সহ সভানেত্রী মল্লিকা ভুঁইয়া। যুব সাথীর ক্যাম্পে গিয়ে ফর্ম ফিল-আপ করলেন বিজেপি নেত্রী। সিধো কানহো বিরসা বিশ্ববিদ্যালয়ে সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করছেন মল্লিকা। ' আমি বেকার, এটা আমার অধিকার', মন্তব্য মল্লিকা ভুঁইয়ার।
বিজেপি নেত্রী মল্লিকা ভুঁইয়া বলেন, আমি একজন ছাত্রী, সংস্কৃত নিয়ে পড়াশোনা করছি। আমার এখনও MA কমপ্লিট হয়নি। BA পাশ ছাত্রী হয়ে যদি আমাকে বেকার ভাতা নিতে হয়, তো আমার পার্টি এটা বিরোধীতা করছে, আমি বলব, একদম ঠিক করছে। বিরোধিতা করা উচিত। কারণ আমার ঘরে যদি একটা চাকরি থাকে, তাহলে আমাকে ভাতার পিছনে দৌঁড়াতে হবে না। আজকে আমার চাকরি নেই বলে, ভাতার পিছনে দৌঁড়তে হচ্ছে।..যেহেতু আমি বেকার, আমি তো কোনও কাজ করি না। আমি একজন ছাত্রী। সেই কারণেই আমি এখানে বেকারভাতার ফর্মফিলাপ করতে এসেছি।
সম্প্রতি রাজ্য সরকারের যুব সাথী প্রকল্পের ক্য়াম্পে দেখা যায় বিজেপি থেকে সিপিএম নেতাদের। জলপাইগুড়িতে বেকার ভাতার জন্য ক্য়াম্পে হাজির হন বিজেপি যুব মোর্চার সদস্যরা। সহায়তা শিবিরে তদারকিতে খোদ বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান! কাটোয়ায় বেকার ভাতা প্রকল্পের সুবিধাভোগীদের জন্য সহায়তা শিবির করেছে সিপিএম! বিধানসভা ভোটের আগে 'বেকার ভাতা' প্রকল্প চালু করেছে রাজ্য সরকার। 'বাংলার যুব সাথী' নামে এই প্রকল্পে মাসে মাসে হাতে মিলবে নগদ দেড় হাজার টাকা। এই বেকার ভাতা পেতে বিভিন্ন জেলায় ক্য়াম্পে লাইন দিয়েছেন উচ্চশিক্ষিতরা। যার মধ্য়ে চাকরি না পাওয়া নিয়ে হতাশাও ঝরে পড়েছে অনেকের গলায়।
এই আবহে রাজ্য সরকারের 'বাংলার যুব সাথী' প্রকল্পের ক্যাম্পে ২ জেলায় ২ ভূমিকায় দেখা গেল ২ বিরোধী দলকে। জলপাইগুড়ি সদর ১ নম্বর ব্লকের বটতলা এলাকায় 'বাংলার যুব সাথী' প্রকল্পে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সহায়তা শিবির খোলা হয়েছে। বেকার ভাতার জন্য সেখানে হাজির হয়েছেন বিজেপি যুব মোর্চার সদস্যরাও। জলপাইগুড়ি সদর INTTUC ব্লক সভাপতি শুভঙ্কর মিশ্র বলেন, আমরা বাছবিচার করি না। যারা আছে তোমাদের, যারা নিতে ইচ্ছুক, সবাইকে ফর্ম ফিলআপটা করিয়ে দিও। তোমরা বিজেপি করো কোনও অসুবিধা নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যয়া সবার জন্য।জলপাইগুড়িতে সহায়তা শিবিরে বসে তদারকি করছেন খোদ বিজেপির পঞ্চায়েত প্রধান!বাহাদুর গ্রাম পঞ্চায়েত বিজেপি নেতা ও প্রধান অমিত দাস বলেন, পশ্চিমবঙ্গে যুবকরা যেখানে কর্মহীন অবস্থায় আছে, কোনও শিল্প নেই, কর্ম সংস্থান নেই। সেখানে গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজোর মতো এই ভাতা। কেন নেবে না?এটা তো নিজস্ব টাকা নিজেরাই নিচ্ছে। '
