বিনপুর : লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কি এবারও ডিভিডেন্ড দেবে তৃণমূল কংগ্রেসকে। ৪ মে তা স্পষ্ট হবে। কিন্তু, ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে রাজ্য সরকারের যে স্কিম যে শাসকদলের প্রচারে অন্যতম নির্বাচনী 'হাতিয়ার' তা বলাই বাহুল্য। এদিনও তাই জনসভা থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের প্রসঙ্গ তুলেই বিজেপিকে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়লেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন বিনপুরের সভা থেকে তিনি বলেন, "আমি চ্যালেঞ্জ করব। একটা রাজ্যে যেভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় প্রত্যেক পরিবারের মহিলাদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার দিচ্ছেন, বিজেপি যদি একটা রাজ্যে করে দেখাতে পারে তাহলে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে আমি তৃণমূলের হয়ে আপনাদের কাছে সমর্থন চাইতে আসব না। করে দেখাক।" 

Continues below advertisement

'সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবে।' তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশের দিনই পুনরায় একবার ঘোষণা করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠক করে দলের ইস্তেহার প্রকাশ করেন তৃণমূলনেত্রী। একাধিক অঙ্গীকার করা হয় দলের তরফে। তবে, রাজ্যের অন্যতম জনপ্রিয় এই স্কিম নিয়ে সেদিনও মমতা বলেন, "লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি আমরা করেছি। এবং বলে দিয়েছি, সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবে।" এর পাশাপাশি নাম না করে বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, "যদি কেউ বলে আমরা করব, তারা ভোটের সময় বলবে, কিন্তু পরে করবে না। কিন্তু, আমরা করে দেখিয়েছি। এবং একমাস আগেই করে দিয়েছি।" তাঁর সংযোজন, "এখন সাধারণ মহিলারা পাচ্ছেন দেড় হাজার। মানে, বছরে ১৮ হাজার টাকা। আর তফসিলি জাতি এবং আদিবাসীদের জন্য ১৭০০ টাকা অর্থাৎ বার্ষিক ২০ হাজার ৪০০ টাকা।"

প্রত্যাশা ছিলই। ঘটেও তাই। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্প ডিভিডেন্ড দিয়েছিল তৃণমূলকে। মহিলাদের ঢালাও সমর্থন পেয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছিল রাজ্যের শাসকদল। এবারও সেই অস্ত্রতেই শান দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যাশা মতোই বাড়ানো হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাসিক বরাদ্দ। এই স্কিমে একলাফে বেড়ে গেছে অনেকটা টাকা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ বেড়েছে ৫০০ টাকা । অন্তর্বর্তী বাজেটে বড় ঘোষণা করে রাজ্য সরকারের। সাধারণ মহিলাদের জন্য মাসে ১৫০০ টাকা করে, এসসি-এসটি-দের ১৭০০ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে।

Continues below advertisement

কোন যোগ্যতা থাকলে পাবেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার ? যাঁরা আবেদন করবেন, তাঁদের বেশ কিছু যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক। প্রথমত, স্বাস্থ্য সাথীর অধীনে তাঁদের নাম নথিভুক্ত থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে। তৃতীয়ত, আবেদনকারীর বয়স ২৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যে হতে হবে। চতুর্থত, সরকারি কর্মচারী হলে এই ক্ষেত্রে আবেদন করা যাবে না।