দীপক ঘোষ, আলিপুরদুয়ার : প্রান্তিক জেলা আলিপুরদুয়ার। সবুজে ঘেরা শান্তির পরিবেশ। পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রে। প্রান্তিক হলেও এই জেলার রাজ নৈতিক গুরুত্ব অপরিসীম। এক সময় আলিপুরদুয়ার মানেই ছিল লাল-দুর্গ। তখন অবশ্য আলিপুরজেলা আলাদা জেলা ছিল না। জলপাইগুড়ি জেলার অন্তর্গত আলিপুরদুয়ার মহকুমা হিসেবে পরিচিত ছিল । পরে প্রশাসনিক কাজের সুবিধার্থে জলপাইগুড়ি জেলাকে বিভক্ত করে আলিপুরদুয়ারকে একটি আলাদা জেলা করা হয় । নির্দিষ্ট করে বললে, বাম আমলে আলিপুরদুয়ার ছিল RSP-র দুর্ভেদ্য দুর্গ। ২০১১ সালে সেই যে বাম দুর্গে আঘাত এল, সেটা আর প্রতিহত করতে পারেনি বামেরা। প্রথমে তৃণমূল, তারপরে বিজেপি এখানে জাঁকিয়ে বসেছে। তৃণমূলের কাছে এবারের লড়াই তাদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারের করার। প্রান্তিক জেলা হলেও এর গুরুত্ব অপরিসীম। ২০১৪ সালে, জলপাইগুড়ি থেকে আলাদা হয়ে আত্মপ্রকাশ করে এই জেলা। ২০১১ সালে, সর্বশেষ যে জনগণনা হয়েছিল, সেই তথ্য অনুযায়ী জেলার জনসংখ্যা প্রায় ১৫ লক্ষ। জেলার বিধানসভা কেন্দ্র মোট পাঁচটি। পাহাড়, অরণ্য আর নদী ঘেরা অপূর্ব সুন্দর এই ভূখণ্ড প্রকৃতির এক অনন্য উপহার। চা বাগান ঘেরা এই এলাকা পর্যটনের জন্য আদর্শ জায়গা। ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে আলিপুর দুয়ারে পাঁচটি আসনেই জয় ছিঁনিয়ে নেয় গেরুয়াশিবির। পরে আলিপুরদুয়ারের বিজেপি বিধায়ক সুমন কাঞ্জিলাল দল বদলে চলে আসেন তৃণমূলে। তাঁকে আঁকড়ে গত পাঁচ বছর এখানে নিজের জয়ের পতাকা উড়িয়েছে শাসকশিবির। সুমন এবার সরাসরি তৃণমূলের প্রার্থী, এই আলিপুরদুয়ার বিধানসভা কেন্দ্রে।
আরও পড়ুন : ভোটের ফলে শূন্যের গেরো কি কাটবে বামেদের? কী বলছে মানুষ?
২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে পাঁচটি আসন দখল করে নেওয়ার পরে ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনেও এখানে জয়ী হয়েছে বিজেপি। আলিপুরদুয়ার আসনে তৃণমূল, বিজেপি বিধায়ককে দল ভাঙিয়ে নিজেদের ঘরে আনলেও এখনও সেই আসনের ভোটারদের যে তারা অনুকুলে আনতে পারেনি সেটা ২০২৪-এর ভোটেই স্পষ্ট হয়েছে। গত লোকসভা ভোটের বিধানসভাভিত্তিক ফলেই ধরা পড়েছে সেই তথ্য।
একনজরে ২০২৪-এর লোকসভা ভোটের বিধানসভাভিত্তিক ফলাফল
| এলাকা (বিধানসভা) | বিজেপি ভোট | তৃণমূল ভোট |
|---|---|---|
| কুমারগ্রাম | ১,১০,৩৯৪ | ১,০২,৫৭৩ |
| কালচিনি | ৯৬,৩৯৩ | ৮১,৫২৬ |
| আলিপুরদুয়ার (লোকসভা ২০২৪) | ১,১৪,৮২১ | ৮৬,২৫৭ |
| ফালাকাটা | ১,০৫,৯৭২ | ৯৭,০০৬ |
| মাদারিহাট | ৭৯,৯২১ | ৬৮,৮৫৮ |
ফলাফলই বলে দিচ্ছে এখানে পাঁচ কদম এগিয়ে থেকে ভোটের লড়াইয়ে নেমেছে গেরুয়াশিবির। স্বভাবতই তৃণমূলের জন্য এখানে প্রত্যাবর্তনের লড়াইটা অত্যন্ত কঠিন।
