কলকাতা: বিজেপি-র ‘বি টিম’ বলে অভিযোগ রয়েছে তাঁদের বিরুদ্ধে। ভোট কাটাকাটির রাজনীতিতে সিদ্ধহস্ত বলেও অভিযোগ। পশ্চিমবঙ্গেও কি তেমন কোনও লক্ষ্য নিয়ে আগমন ঘটেছে তাঁদের? কলকাতার সাংবাদিক বৈঠক থেকে সেই নিয়ে মুখ খুললেন আসাদউদ্দিন ওয়েইসি। পশ্চিমবঙ্গে ঠিক কী লক্ষ্য নিয়ে এসেছেন, জানিয়ে দিলেন। (Asaduddin Owaisi)

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে এবার পশ্চিমবঙ্গেও লড়াই করছে ওয়েইসির দল All India Majlis-e-Ittehadul Muslimeen (মিম)। হুমায়ুন কবীরের আম জনতা উন্নয়ন পার্টির সঙ্গে জোট বেঁধে ভোটে নামছে তারা। সেই উপলক্ষে হুমায়ুনের সঙ্গে বুধবার কলকাতায় যৌথ সাংবাদিক বৈঠকও করেন ওয়েইসি। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে খোলাখুলি জবাব দেন। (Abhishek Banerjee)

হুমায়ুন তৃণমূলের ভোট কাটতে নেমেছেন বলে আগেই অভিযোগ উঠেছিল। এখন মিম-ও সেই রাস্তায় হাঁটছে বলে অভিযোগ জোড়াফুল শিবিরের। তাদের দিয়ে কাজ হাসিল করতে বিজেপি টাকা ঢালছে বলেও দাবি উঠছে। সেই নিয়ে প্রশ্ন করতেই কার্যত ফুঁসে উঠলেন ওয়েইসি। পরিষ্কার ভাষায় বললেন, “তাই যদি হয়, তাহলে অভিষেক বন্দ্য়োপাধ্যায়কে ৯০ শতাংশ দিয়ে দিতে প্রস্তুত আমি। বাকি ৫ শতাংশ আমি রাখছি, আর ৫ শতাংশ দিয়ে দিচ্ছি ভাইকে (হুমায়ুন)। এবার বলুন!”

তবে শুধু তৃণমূলই নয়, ওয়েইসি এবং তাঁর দলকে বিজেপি-র ‘বি টিম’ বলে কটাক্ষ করতে শোনা যায় অন্য বিরোধী দলগুলিকেও। এমনকি তাঁরা সাম্প্রদায়িক রাজনীতি করেন বলেও অভিযোগ। যদিও এব্যাপারে তৃণমূলকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন ওয়েইসি। তাঁর কথায়, “সংখ্যালঘুদের নিয়ে রাজনীতি করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতার রাজনীতিতে বঞ্চিত সংখ্যালঘুরা। সংখ্যালঘুদের ভোটে জিতেছেন মমতা। কিন্তু সংখ্যালঘুদের জন্য কোনও কাজ করেনি তৃণমূল সরকার।” এমনকি UAPA বিল নিয়ে সংসদে কী ভূমিকা পালন করেছে তৃণমূল, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। 

এমনকি পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র বাড়বাড়ন্ত নিয়েও তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তোলেন ওয়েইসি। তিনি বলেন, ""বিজেপির তিন জন বিধায়ক কবে ছিল? ২০১৬ সালে, তাই তো? এখন ওরা বেড়ে হয়েছে ৭৭। আমার জন্য! আগে বিজেপি-র কত জন সাংসদ ছিল আর এখন কত? আমি তো এত শক্তিশালী হইনি, হয়েছি কি? নন্দীগ্রামের সময় আমি এবং আব্দুল ওয়াহাব দিল্লি থেকে এসেছিলাম। সেই সময় মুসলিম সাংসদরা আসতে চাইছিল। সেই সময় বাম সরকার মনমোহন সিংহকে বলে, মন্ত্রীদের আসতে হবে না। বিমানবন্দর থেকে আমাদের কে নন্দীগ্রাম নিয়ে গিয়েছিল জানেন? শুভেন্দু। মোটর সাইকেলে চেপে গিয়েছিলাম। চার বার লাফিয়ে পালাতে হয়েছিল। বামেরা বোমা ফেলছিল। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার এবং আব্দুল ওয়াহাবের প্রশংসা করেননি সেই সময়? তখন ভাল ছিলাম, আর এখন খারাপ হয়ে গেলাম। এটাকে বলে সুবিধেবাদী, উচ্চবর্ণের মানসিকতা, যে আমরা রাজত্ব করবে, তোমরা করবে গোলামি।'

পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম ভোট ভাঙাতেই কি তাহলে লড়াইয়ে নামছেন ওয়েইস? ওয়েইসি জানিয়েছেন, অনগ্রসর শ্রেণির উপর বঞ্চনা রুখতে, দুর্বলদের ক্ষমতায়ন এবং রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রতিষ্ঠাই তাঁদের লক্ষ্য়। ঠিক কত আসনে প্রার্থী দেবে মিম, এখনও তা স্পষ্ট নয়। তবে বৃহস্পতিবার সব স্পষ্ট হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ওয়েইসি। তিনি বলেন, “আমাদের শক্তি আমরা জানি। যত বেশি সম্ভব আসনে জয়ী হওয়ার চেষ্টা করব।”