চুঁচুড়া: জেতা কেন্দ্রে তরুণ তুর্কিকে প্রার্থী করেছে দল। ক্ষোভ উগরে দিলেন চুঁচুড়ার বিদায়ী বিধায়ক, তৃণমূলের দাপুটে নেতা অসিত মজুমদার। তাঁর পরিবর্তে দেবাংশু ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করায় অসন্তোষ গোপন করলেন না। জানালেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর সঙ্গে কথা পর্যন্ত বলেননি। রাজনৈতিক থেকে সন্ন্যাসেরও ঘোষণা করে দিলেন অসিত। (Asit Mazumdar)
পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে। সেই আবহে মঙ্গলবার ২৯১টি আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে তৃণমূল। দার্জিলিং, কালিম্পং এবং কার্শিয়ং ছেড়ে দেওয়া হয়েছে অনীত থাপার দলকে। সেই ঘোষণা করতে গিয়ে চুঁচুড়ার প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণা করা হয় দেবাংশুর। নতুন প্রজন্মকে সুযোগ করে দিতেই এমন সিদ্ধান্ত বলে জানান মমতা। সেই ঘোষণা হতেই শোরগোল পড়ে যায় সর্বত্র। (Debangshu Bhattacharya)
আর সেই আবহেই এবিপি আনন্দে ক্ষোভ উগরে দিলেন অসিত। দেবাংশুর কাছে টিকিট হাতছাড়া হওয়া নিয়ে বললেন, "দল মনে করেছে, আমার চাইতে দেবাংশুই ভাল হবে। কারণ এরা যুব, অনেক বেশি ভাইটাল।" তিনি যে টিকিট পাচ্ছেন না, তা কি জানানো হয়েছিল? কটাক্ষমিশ্রিত সুরে অসিত বলেন, "আমার সঙ্গে কোনও কথা হয়নি। কথা বলার প্রয়োজন আছে নাকি! যেখানে দিদিমণি, অভিষেক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে...এরা দলের সর্বময় কর্তা। আমরা তো চুনোপুঁটি লোক! আমার সঙ্গে কেন কথা বলবে বলুন?"
২০১১ সাল থেকে টানা চুঁচুড়ায় জয়ী হয়ে আসছেন অসিত। তিন-তিনবারের জেতা বিধায়ককে হঠাৎ কেন ছেঁটে ফেলা হল? উত্তরে অসিত বলেন, "নিশ্চয়ই আমার মধ্যে কোনও খামতি আছে। না থাকলে দেবে না কেন! আমি মনে করছি খামতি নেই, ওরা মনে করেছে আছে। নইলে তিন বার দিল, এবার দিল না কেন?" এদিন একেবারে রাজনীতি থেকে সন্ন্যাস নেওয়ার ঘোষণাও করে দেন অসিত। বলেন, "রাজনীতি করব না আর। রাজনীতি থেকে বিশ্রাম নিলাম।" কিন্তু তৃণমূল যদি কাজ চালিয়ে যেতে বলে? অসিতের সাফ জবাব, "দল বললেই কাজ করতে হবে নাকি? আমি কারও ঠিকা চাকর নাকি?"
এর আগে, লোকসভায় তমলুক থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন দেবাংশু। সেখানে পরাজিত হলেও, বিজেপি-র অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে জোর লড়াই চালিয়ে গিয়েছিলেন। এবার চুঁচুড়া টিকিট পেয়ে উচ্ছ্বসিত তিনি। বলেন, "সিপিএম-এর দেখবেন মরার সময় হরির নাম। ২০১১ সালে দল যখন চলে যাচ্ছে, সেই সময় নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে দিয়েছিল। আমাদের দল কিন্তু মধ্যগগনে থাকাকালীনই নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে দিয়েছে। চুঁচুড়া রাজনৈতিক ভাবে সচেতন, শিক্ষিত, সংস্কৃতিভাবাপন্ন মানুষের বাস। সেখানে দল পাঠিয়েছে আমাকে। আমার বিশ্বাস, আজ থেকে চুঁচুড়া আমার আর একটা পরিবার। এখানকার, মা-কাকিমা, দিদি-বোনেরা যে নতুন চুঁচুড়া গড়ার স্বপ্ন দেখেন, আগামীতে তা-ই গড়ে উঠবে।"
তবে অসিতের জায়গায় দেবাংশুকে প্রার্থী করা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেও জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। এমনিতে বেশ কিছু দিন ধরেই একাধিক কারণে খবরের শিরোনামে উঠে আসছিলেন অসিত। SIR-এর শুনানিতে বাধা থেকে প্রশাসনিক ভবনে ফর্ম ৭ ছিঁড়ে ফেলা, সবেতে নাম জড়ায় তাঁর। এমনকি রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংসদ তহবিল থেকে আসা টাকায় কাজ হওয়া একটি স্কুলে গিয়েও তিনি ঝামেলা বাঁধান বলে জানা যায়। সেই নিয়ে শীর্ষ নেতৃত্বও অসন্তুষ্ট হন অসিতের প্রতি। পরবর্তীতে রচনাকে 'বোন' বলে উল্লেখ করলেও, চিঁড়ে ভেজেনি। আবার ভোটের আগে আগে বিজেপি, সিপিএম-নেতাদের কাছেও অসিতের আনাগোনা বেড়েছিল বলে জানা যায়। তাই কি তাঁর জেতা আসনে দেবাংশুকে প্রার্থী করা হল? প্রশ্নের উত্তর খুঁজছেন তৃণমূলের অনেকেও।
