প্রধানমন্ত্রীর ব্রিগেডের সভায় যাওয়ার পথে গিরিশ পার্কে ধুন্ধুমার। সংঘর্ষ বেঁধে যায় তৃণমূল ও বিজেপির। আর এই সবের মধ্যেই অভিযোগ আক্রান্ত হয়েছেন স্বয়ং মন্ত্রী শশী পাঁজা। ভাঙচুর করা হয় শশী পাঁজার বাড়িও। বিকালের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে এই ঘটনাকে 'হুলিগানিজম' বলে দাগিয়ে দিলেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ব্রাত্য বসু। অসুস্থ হলেও এই সম্মেলনে যোগ দেন মন্ত্রী শশী পাঁজাও। তাঁর সঙ্গেই বেশ কিছু আহত তৃণমূল সমর্থকও আসেন এই সাংবাদিক সম্মেলনে।
আসলে কী হয়েছিল, এই সাংবাদিক সম্মেলন থেকে সেটা বললেন শশী পাঁজা। বিজেপি খুনী - গুণ্ডা পোষে, বলেন শশী। "এতদিন ভাবতাম গণতন্ত্রের হত্যা করে। এখন দেখছি এরা শারীরিক ভাবেও মারতে চায়", বিরাট অভিযোগ করেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, তাঁর পেটে ইট ছোড়া হয়েছ। তবে তিনি একা নয়, তাঁর অনুগামীদেরও তিনি নিয়ে আসেন এই সাংবাদিক সম্মেলনে, যাঁরা আক্রান্ত হয়েছেন।
"প্রধানমন্ত্রী নাকি হিসাব নেবেন বলেছেন। আজকে সেই হিসাবের নিদর্শন। রাজ্যের মন্ত্রীর উপর আক্রমণ। আমি আহত, আমার সহকর্মীরা আহত। এটাই বিজেপির গণতন্ত্রের উদাহরণ?" সাংবাদিক সম্মেলন থেকে বিজেপি ও প্রধানমন্ত্রীকে নিশানা করলেন শশী পাঁজা।
প্রধানমন্ত্রীর র্যালিতে বাসে করে ইট, পাথর, বোম, লাঠি নিয়ে গিয়েছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা, অভিযোগ করলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা। তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে থাক তৃণমূল সমর্থকদের কারও মাথা ফেটেছে। কারও চোখে লেগেছে। আবার কারও বুকে। শশী পাঁজার মুখে শোনা যায়, এদিন আক্রান্ত হয়েছে মহিলা পুলিশও।
মন্ত্রী জানান তাঁর কাছে ফুটেজ আছে, প্রত্যেকে রেকর্ডিং করেছে। এমনকি তিনি খুনের অভিযোগ তুলে এফআইআর করছেন বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এই ঘটনা ঘটেছে যাওয়ার সময়। ফেরার সময় যে কিছু হবে না এই গ্যারান্টি কে দেবেন?
এই দিনের র্যালিকে 'বিগ্রেড র্যালি' বলে কটাক্ষ করেন রাজ্যের মন্ত্রী। "এরা কোথা থেকে এসেছেন? বিহার, ঝাড়খণ্ড থেকে? এই বিগ্রেড র্যালি বড়ানোর জন্য গুণ্ডা, মাওয়ালি, মাতালদের নিয়ে এসেছে?" প্রশ্ন তোলেন শশী। এমনকি মাতলামোর ঘটনার অভিযোগও করেন তিনি। এরপর তৃণমূলের তরফে একটি ভিডিও দেখানো হয় যেখানে দেখা যায় আক্রমণ ও আক্রান্তের ছবি। গেরুয়া পাঞ্জাবি পরা ব্যক্তিদের ইট ছুঁড়তেও দেখা যায় এই ভিডিওতে। এমনকি এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষ বলেন, "তৃণমূল কংগ্রেসের ভদ্রতাকে দুর্বলতা ভাবলে খুবই মুশকিল হবে"।
