সমীরণ পাল, সৌমিত্র রায়, বরানগর - এক মাস পরেই পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন। তার আগেই কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে বরানগরের গোপাল লাল ঠাকুর রোড। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত যে তা সামাল দিতে নামানো হয়েছে র্যাফ, প্রচুর পুলিশবাহিনী। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তৃণমূল এবং বিজেপির কর্মীদের সংঘর্ষের কারণে। পোস্টার লাগানো নিয়ে দুই দলের কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ঝামেলা শুরু হয় শনিবার সন্ধ্যায়। ঘটনাস্থলে রয়েছেন দু'দলেরই প্রচুর কর্মী-সমর্থক।
বিজেপির তরফে জানা গিয়েছে, বরানগরের ওই এলাকার নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে একটি গেট করা হয়েছিল। সেখানে লাগানো হয়েছিল হোর্ডিং। অভিযোগ, সেই গেট-হোর্ডিং খুলে দেয় তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা। এরপরই ২ পক্ষের ঝামেলা শুরু হয়। মুহূর্তে পরিস্থিতি সাংঘাতিক আকার নেয়। ঘটনাস্থলে আসেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। বরানগরের বিধায়ক তিনি। এবছরও প্রার্থী হয়েছেন বরানগর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই। তৃণমূলের বিধায়কের অভিযোগ, তাঁরা শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচার করছিলেন। বিজেপি বহিরাগতদের নিয়ে এসে অশান্তি তৈরি করেছে ইচ্ছে করে। এদিন গন্ডগোলের খবর পেয়ে সায়ন্তিকা বরানগরের গোপাল লাল ঠাকুর রোডে এলে, তাঁর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা। 'সায়ন্তিকা গো ব্যাক, চোর এমএলএ গো ব্যাক' স্লোগান ওঠে। মাইক হাতে স্লোগান দিতে দেখা যায় বরানগরের এবারের বিজেপির প্রার্থী সজল ঘোষকেও। পাল্টা স্লোগান দিতে দেখা যায় সায়ন্তিকা এবং বাকি তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদেরও।
সায়ন্তিকা অভিযোগ করেছেন, শনিবার সন্ধ্যায় বিজেপির যারা বরানগরে কার্যত তাণ্ডব চালিয়েছে তারা কেউ সেখানকার লোক নয়। বাইরে থেকে আনা হয়েছে তাদের। সায়ন্তিকা এও বলেন, 'বরানগরকে অশান্ত করার জবাব বরানগরবাসী গণতান্ত্রিক ভাবে দেবে। বিজেপি ভয় পেয়েছে যে তারা হেরে যাবে। তাই জন্য এভাবে মানুষকে ভয় দেখাচ্ছে। মিথ্যে কথা বলছে বিজেপি। বিজেপি একটা মিথ্যেবাদীর দল। সজল ঘোষ মিথ্যে কথা বলছেন। আমি কিছু বলব না। মানুষ জবাব দেবে। বাইরে থেকে লোক এনে আমাদের প্রতিবন্ধী কর্মীকে মেরেছে। মহিলাকর্মীদের হাতে মেরেছে। শাড়ি টেনে ছিঁড়ে দিয়েছে। এই বিজেপি নারী বিদ্বেষী। আমরা চাই সবাই শান্তিপূর্ণ ভাবে প্রচার করুক। একজন প্রতিবন্ধীর গায়ে হাত দিয়েছে, দেখি নির্বাচন কমিশন স্টেপ নেয় কিনা। আগে আমরা পুলিশকে জানাব।'
এদিনের ঘটনায় বরানগরের বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষ বলেছেন, 'গত ২-৩ দিন ধরে এখানে আমাদের হোর্ডিং ছিল। আজ ওরা এটা খুলে ওদের হোর্ডিং লাগিয়ে দিয়েছে। ওই যে সায়ন্তিকার কোম্পানি... বিশ্বজিৎ বর্ধন... তার ফলে যা যা হওয়ার সেগুলো হবে। এখানে আমাদের সব ফ্ল্যাগ ফেলে দিয়েছে। সব নামিয়ে দিয়েছে। আমাদের ঝাণ্ডা ছিল। আমাদের সব ঝাণ্ডা তুলে নিয়ে চলে গেছে। এসব মিথ্যে কথা বাংলার মানুষ বোঝে। সারাক্ষণ মোবাইলে ধরা আছে। কাকে মেরেছি দেখা। মারব, এখনও মারিনি। জনগণকে যেভাবে ক্ষ্যাপাচ্ছে, জনগণ জবাব দিলে সেটা আমাদের হাতে নেই।'
