সোনারপুর : একের পর এক জনসভা। এপ্রিলের তপ্ত দুপুরের গরম উপেক্ষা করেও দলের একের পর এক প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করে চলেছেন তৃণমূলনেত্রী। সেরকমই এদিন সোনারপুরের স্পোর্টিং ইউনিয়ন ক্লাবের খেলার মাঠের জনসভায় সোনারপুর দক্ষিণ ও সোনারপুর উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী যথাক্রমে অরুন্ধতী মৈত্র (লাভলি) ও ফিরদৌসী বেগমের সমর্থনে প্রচার সারেন তিনি। সঙ্গে উভয় প্রার্থী প্রসঙ্গে দেন নিজস্ব মতামতও। মমতা বলেন, "লাভলি যেমন টেলিভিশনেরও কাজ করে, এলাকা করে। দেখুন নতুন যারা হয়, নতুন বাড়িতে ঢুকতে গেলে একটু ...অনেক সময় আমরা প্রথম জানতে পারি না, একটু ভুলভ্রান্তি হতেই পারে। আমার কী জীবনে ভুল হয়নি ! নিশ্চয়ই কাজ করতে করতে কোথাও অজান্তে ভুল হয়েছে। পরে সেটা শুধরে নেওয়ার সময় দিন। ও কিন্তু পার্টির খুব অনুগত। ও কিন্তু...বিধানসভায় আমি দেখেছি...লাভলি আর ফিরদৌসি...প্রত্যেকটা অ্যাসেম্বলিতে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত থাকে। তখন ও সিরিয়াল বাদ দিয়েও এই কাজটা করে। কারণ, মানুষের কাজ করাটা বড় কাজ।"
লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ সংশোধনী বিল পাস করাতে ব্যর্থ কেন্দ্র। গতকাল বিরোধীরা একজোট হয়ে ভোট দেওয়ায় পাস হয়নি বিল। এই প্রসঙ্গ তুলে এদিন বিজেপি ও মোদিকে নিশানা করেন মমতা। তিনি বলেন, "খুব বাড় বেড়েছিল বিজেপির। খুব ঔদ্ধত্য, অহঙ্কার। কাল হেরে গিয়ে বাবু আজ জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন। ভাষণটা কী ? অপব্যবহার । দূরদর্শনটা কব্জায় নিয়ে নিয়েছে। আগে রাজীবজির আমলে একবার দেখালে বলতেন রাজীব-দর্শন। আর এখন ওটা মোদি-দর্শন হয়ে গেছে। স্কুলে স্কুলে বক্তৃতা দেন, জানেন আপনারা ? বাচ্চাদের ভাষণ শোনান। ওদের মগজ-ধোলাই করেন। যা আমি জীবনে শুনিনি। ইতিহাস বদলে দিচ্ছে, ভূগোল বদলে দিচ্ছে, সংবিধান বদলে দিচ্ছে। গান্ধীজিকে বর্জন করছে।" প্রসঙ্গত, লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ-সহ বিল পাস করাতে পারেনি কেন্দ্র। সংবিধান (১৩১তম সংশোধনী) বিল ২০২৬ পাস করানোর জন্য দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন ছিল কেন্দ্রের। কিন্তু, সেই সংখ্যক ভোট তারা পায়নি। বিলের পক্ষে ভোট পড়ল ২৯৮, বিপক্ষে ভোট দেন ২৩০ সাংসদ। ভোটদান পর্বে সংসদে উপস্থিত হন ৫২৮ জন সদস্য। এরমধ্যে ২৯৮ জন বিলের পক্ষে ভোট দেন এবং এর বিরোধিতা করেন ২৩০ জন সাংসদ। কিন্তু, NDA-র দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ছিল ৩৫২ ভোট। কাজেই বিল দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি বলে জানিয়ে দেন লোকসভার অধ্যক্ষ ওম বিড়লা।
