কলকাতা : ফের নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। পাশাপাশি, প্রশ্ন তুললেন একের পর এক অফিসারের বদলি নিয়েও। নাম না করে ফের একবার আক্রমণ শানালেন শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে। এদিন সাংবাদিকদের কাছে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, "নির্বাচন কমিশন তাহলে কার ইশারায় চলছে, কার কথায় চলছে ! নন্দীগ্রামের বিডিও চলে আসছেন ভবানীপুরে। কারণ, গদ্দারের নিজের লোক বলে।" প্রসঙ্গত, এবার নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর দু'টি কেন্দ্রেই বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। গতবার নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাস্ত করার পর এবার ভবানীপুরেও জোরদার প্রচার শুরু করে দিয়েছেন বিজেপি প্রার্থী। এই কেন্দ্রে তাঁর বিপক্ষে প্রার্থী রয়েছেন তৃণমূলনেত্রী। এই আবহে অফিসার বদল নিয়ে সরব হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বললেন, "৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে কাল চেঞ্চ করা হয়েছে। এর আগে মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, ডিজি থেকে সিপি থেকে প্রায় ৬০-৭০ আইএএস-আইপিএস বাংলায় যারা কাজ করেন, বাইরে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।"
একসঙ্গে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে ৭৩ জন রিটার্নিং অফিসারকে। পুলিশ-প্রশাসনে আমূল রদবদলের পরে এবার রিটার্নিং অফিসারেও বদল। কলকাতা থেকে কোচবিহারের একাধিক রিটার্নিং অফিসার বদল করা হয়েছে। দুই ২৪ পরগনা, ২ মেদিনীপুর থেকে বর্ধমান, মুর্শিদাবাদ, প্রায় সব জেলাতেই একাধিক রিটার্নিং অফিসার বদল করা হয়েছে। ভোট পরিচালনা থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকেন রিটার্নিং অফিসার।
ভোট ঘোষণা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি ভঙ্গ বা অন্য কোনও অভিযোগ ছাড়াই ব্যাপকভাবে অফিসারদের বদলি করা হয়েছে। মুখ্য় নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠিতে আগেই অভিযোগ তুলেছেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। IPS থেকে IAS, আরও আমলাকে ভিনরাজ্যে পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে দলের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের দিনে এই ইস্যুতে সরব হন মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়। সাংবাদিক বৈঠক করে নির্বাচন কমিশন ও কেন্দ্রীয় সরকারকে একহাত নেন। আক্রমণ শানান মোদি-শাহর বিরুদ্ধে।
তিনি সুর চড়িয়ে বলেছিলেন, "দেখুন নির্বাচনের সময় কিছু অফিসার চেঞ্জ হয়। সেটা নিশ্চয়ই নির্বাচন কমিশন করতে পারে। তারও একটা সীমাবদ্ধতা আছে। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগটা কী ? দুই হচ্ছে, যারা নির্বাচন সম্পর্কিত কাজের সঙ্গে যুক্ত আছেন, তাঁদের কিছু কিছু ট্রান্সফার করা হয়। কিন্তু, এবার দেখছি...মানুষ খাদ্য পাবে কোথা থেকে ? রেশন ? বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ যেন আমাকে দোষ না দেয়। কারণ, আমি তো রেশন দিতে চাই। ফুড ডিপার্টমেন্টের প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারিকে নিয়ে গেছে অবজার্ভার করে। কখনো দেখেছেন ? ডেভেলপমেন্ট ওয়ার্ক চালায়। এরা কিন্তু নির্বাচন করে না। এরা সরকারের এক একটা কি অফিসার। পঞ্চায়েত ডিপার্টমেন্টের অফিসারকে বলছে অবজার্ভার হয়ে যেতে। রাস্তাঘাট দেখবে, গ্রামীণ রাস্তা তৈরি করবে...ঝড়-জলে রাস্তা ভেঙে গেলে, ব্রিজ ভেঙে গেলে, দুর্যোগ হলে, ডিজাস্টার হলে PWD-র প্রিন্সিপ্যাল সেক্রেটারির একটা বড় ভূমিকা থাকে। তাঁকেও অবজার্ভার করে নিয়ে চলে যাওয়া হয়েছে। আমি শুনেছি আরও কয়েকটা ডিপার্টমেন্ট, যারা সেক্রেটারি-স্পেশাল সেক্রেটারি ...। দেখুন প্রতিবার যখন ভোট হয় আমাদের রাজ্য থেকে অনেক অবজার্ভার চায়। আমরা দিই যতটা পারি। কিন্তু যখন এই রাজ্যেই ভোট, তখন এই রাজ্যেই যদি সবাইকে নিয়ে চলে যাওয়া হয়, তাহলে ভিন রাজ্যের লোক কি বাংলাকে চেনেন ?"
