দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা : ভোট বঙ্গে শুরু খুনোখুনি। যদিও এই চিত্র নতুন নয়। কিন্তু তাও ভোট যুদ্ধের প্রস্তুতির মাঝে নৃশংস ভাবে খুন হয়ে গেলেন এক বিজেপি কর্মী। তিনি বুথ সহ-সভাপতি ছিলেন। দক্ষিণ ২৪ পরগনার রায়দিঘিতে উদ্ধার হল বিজেপি কর্মীর রক্তাক্ত দেহ। ঘটনার ফলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
ঘটনাটি ঘটেছে রায়দিঘি বিধানসভার ২১৬ নম্বর বুথের মেনা গ্রামে। মৃত ওই ব্যক্তির নাম কিশোর মাঝি। সোমবার রাতে গলা কেটে নৃশংসভাবে খুন করা হয় তাঁকে, এমনটাই অভিযোগ উঠেছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যায় পুলিশ। ঘটনার নেপথ্যে কি রাজনৈতিক কোনও ষড়যন্ত্র নাকি অন্য কোনও ঘটনা? তা নিয়েই শোরগোল পড়েছে রায়দিঘিতে। তবে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ত্রিকোন প্রেমের জেরেই এই খুনের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনার জেরে, পুলিশ ইতিমধ্যে মৃতের স্ত্রী অনিমা এবং তাঁর প্রেমিককে গ্রেপ্তার করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি, সোমবার রাতে কিশোর মাঝিকে ডেকে পাঠায় অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি। এর কিছুক্ষণ পর, তাঁর রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করা হয়। মঙ্গলবার সকালে নিহতের বাড়িতে যান রায়দিঘির বিজেপি প্রার্থী পলাশ রানা। তিনি অভিযোগ জানান, এই ঘটনার পিছনে তৃণমূলের হাত রয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ বিকেলে রায়দিঘি থানা ঘেরাওয়ের ডাকও দিয়েছে বিজেপি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে তৃণমূল।
ভোটের আবহে BJP কর্মীর এই নৃশংস খুন নিয়ে ফিরহাদ হাকিম জানান, ''বিচার ব্যবস্থা আছে, আইন আইনের পথে চলবে। 'যে-ই দুষ্কৃতী হোক, সে গ্রেফতার হবে।'
পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানাচ্ছেন, বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের জন্য এই খুন হয়েছে। এখানে কোনও রাজনৈতিক যোগ নেই। আজ ডায়মন্ড হারবার মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে ধৃত দুজনকে। তারপর তাদের পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হবে। তারপর খুনে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার করার চেষ্টা করবে পুলিশ। এমনটাই পুলিশ সূত্রে খবর। তবে, প্রাথমিক তদন্তের ভিত্তিতে সুন্দরবনের পুলিশ সুপারের দাবি, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে খুন করা হয়েছে কিশোর মাঝিকে।
উল্লেখ্য, এবছর পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে দুই দফায়। প্রথম দফায় রয়েছে ১৫২টি আসন, ভোট হবে ২৩ এপ্রিল। দ্বিতীয় দফায় ১৪২টি আসন, ভোট হবে ২৯ এপ্রিল। ভোটগণনা হবে ৪ মে । এই দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার রায়দিঘিতে ভোট হবে দ্বিতীয় দফায়, অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল। এছাড়াও নদিয়া, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমানেও ভোট গ্রহণ করা হবে।
