কলকাতা: দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের আগে কুরুক্ষেত্র ভবানীপুর। একদিকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। আরেকদিকে শুভেন্দু অধিকারী। প্রচারের শেষ ল্য়াপে দ্বিতীয় দফায় ফের সেঞ্চুরি পার করার হুঁঙ্কার ছাড়লেন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী বললেন, ভবানীপুরেও মমতা ব্য়ানার্জি ২ নম্বরে আছেন এবং ৪ তারিখে গণনার দিন ২ নম্বরেই থাকবেন। ওঁকে পালাতে হবে ৪ তারিখে বেলা ১২টার সময়।

Continues below advertisement

আরও পড়ুন: এবার "মতুয়া সহ সব শরণার্থীদের নাগরিকত্ব দেওয়ার" গ্যারান্টি দিলেন নরেন্দ্র মোদি, "নাটুকে সংলাপ", পাল্টা তৃণমূল!

ভবানীপুরের সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, "প্রথম দফার যে নির্বাচন হল আমরা সেঞ্চুরি পেরিয়ে গেছি। আর আগামী নির্বাচনেও আমরা আরও একটা সেঞ্চুরি পার করব।" এদিকে তাঁরই বিধানসভার প্রতিপক্ষ শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্যে ফুটে উঠল আত্মবিশ্বাস। তিনি বললেন, "আপনারা ওদেরকে চোখ মারবেন। আর ভোটটা পদ্মফুলে দেবেন। মমতা ব্য়ানার্জি ২০২১-এ হেরেছে। ২০২৬-এও হারবে।"

Continues below advertisement

দ্বিতীয় দফা নির্বাচনের আগে প্রচারের শেষ ল্য়াপে পশ্চিমবঙ্গ! জনসভা, জনসংযোগ, ভাষণ, পদযাত্রায় জমজমাট রবিবার। ভরকেন্দ্র ভবানীপুরে যেন এখন 'কুরুক্ষেত্র'-এর রণভূমি! মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় বনাম শুভেন্দু অধিকারী। 

আরও পড়ুন: নির্বাচনের আগে 'সুপার সানডে', প্রথম দফায় জিতবে ১০০-র বেশি সিট, দাবি দুই দলেরই!

নির্বাচনী জনসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, "বিজেপি ভয় পেয়ে গেছে। যে ভয় পেয়েছে, সে মরেছে। সেই জন্য এখন পুরো কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে আর এদিকের সব ওসিকে বদলে দিয়ে, জেলাশাসককে বদলে গুন্ডা-গদ্দারি করছে। বিজেপিকে অ্য়ালাও করবেন না। ওরা বুলডোজার চালিয়ে দেবে। ওরা দাঙ্গা লাগিয়ে দেবে। ও সব খেয়ে নেবে। দেশকে বিক্রি করে দিয়েছে। আমার ২ নম্বর প্রতীকে নাম আছে। ২ মানে ভিকট্রি।"

এর পাল্টা বক্তব্যও আছে শুভেন্দু অধিকারীর। নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি বলেন, "EVM-এ আমার ১ নম্বরে নাম আছে। মমতা ব্য়ানার্জির নাম আছে ২ নম্বরে। নন্দীগ্রামেও মমতা ব্য়ানার্জি ২ নম্বরে ছিলেন। আমি ১ নম্বরে ছিলাম। ভবানীপুরেও মমতা ব্য়ানার্জি ২ নম্বরে আছেন এবং ৪ তারিখে গণনার দিন ২ নম্বরেই থাকবেন। ওঁকে পালাতে হবে ৪ তারিখে বেলা ১২টার সময়। কলকাতা থেকে ইউরোপে যাওয়ার কোনও ফ্লাইট নেই। আপনি দুবাই যাওয়ার ফ্লাইটের টিকিট কেটে রাখুন।"

শনিবার ২৫ এপ্রিল ভবানীপুরে প্রচার ঘিরে ধুন্ধুমার পরিস্থিতি তৈরি হয়। এদিন দুজনের প্রচারেই উঠে আসে সেই প্রসঙ্গ! শুভেন্দু অধিকারী বলেন, "ভবানীপুর থানার অংশে মাত্র ৪০০ মিটার অনুমতি দিয়ে কালীঘাট থানার অংশে আমাকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। এই কাজের জন্য যিনি আসল কারিগর ছিলেন কালীঘাট থানার ওসি তাকে সন্ধেবেলায় নির্বাচন কমিশন সরিয়ে দিয়েছে।" অন্যদিকে পাল্টা বক্তব্য রেখেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি বলেন, "এখন যে এখানকার পুলিশ আছে, কী বলব আমি, ওদেরকে বিজেপি দেখে দেখে নিয়ে এসেছে। আর ওরা একটাও অ্যাকশন নেয়না। শুধু আমাদের দলের বিরুদ্ধে অ্য়াকশন নেয়। কিন্তু এরা জানে না ৪ তারিখের পর এরা ফিরে যাবে। কিন্তু আপনারা তো এখানে থাকবেন।"

প্রথম দফার ভোটের পর থেকেই জেলায় জেলায় স্ট্রংরুম নিয়ে একের পর এক অভিযোগ উঠেছে এদিন তা নিয়েও সরব হন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। তিনি বলেন, "আমি কাল ২টো ঘটনা শুনলাম। EVM মেশিন ক্য়াপচার করার জন্য সেন্ট্রাল ফোর্স গিয়ে কম্বল লাগিয়ে ক্রিমিনালদের নিয়ে যায়। আর নির্বাচন কমিশনকে দেখুন, আমি চেয়ারকে সম্মান করি। কিন্তু এটা ঠিক নয়, যখন তোমার কেউ EVM ক্য়াপচার করতে যায় এটা তো আপনাদের দেখা উচিত। লোডশেডিং কেন হচ্ছে ওখানে? তুমি কারেন্ট অফ করে আর কম্বল মুড়ি দিয়ে, মুখোশ পরে গিয়ে লুঠ করার চেষ্টা করছ।" ভবানীপুরে কী হবে? শুভেন্দু অধিকারী বনাম মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসবেন? সেটাই এখন দেখার।