দীপক ঘোষ, কলকাতা : দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক লড়াই বিজেপির। এর আগে একাধিকজন দায়িত্ব সামলেছেন। কিন্তু, বিজেপি প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে ক্ষমতায় এল তাঁর সভাপতিত্বে। কথা হচ্ছে, রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের। ভোটের আগে যার একাধিক সিদ্ধান্ত দলকে একজোট করেছে বলে মত রাজনৈতিক মহলের। রাজ্যে ক্ষমতা দখলের পর এবিপি আনন্দে এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে একাধিক বিষয় নিজের মতামত জানালেন শমীক। তারমধ্যে অন্যতম বিষয় অবশ্যই চিত্রতারকা-শিল্পী-সাহিত্যিকদের রাজনীতি করা নিয়ে তাঁর মতামত। 

Continues below advertisement

তাঁকে এবিপি আনন্দর তরফে প্রশ্ন করা হয়েছিল,  এতদিন ধরে একটা জিনিসের অভ্যাস ছিল যে, প্রার্থীর মুখ মানে- দেব, কোয়েল...আপনারাও ২০২১ সালে বিভিন্ন নায়ক-নায়িকা নিয়ে এসেছিলেন। আবার প্রচারের মুখ হচ্ছে বুদ্ধিজীবী। অপর্ণা সেন, জয় গোস্বামী, শ্রীজাত...আরও অনেক বুদ্ধিজীবী...লেখক-শিল্পীর সমাহার..। বিজেপি এই বছর নির্বাচনে লড়ল এই দু'টো ফ্যাক্টরে বাদ দিয়েই...?

Continues below advertisement

এই প্রশ্নের উত্তরে শমীক ভট্টাচার্য বলেন, "রাজনীতির একটা নিজস্ব ভাষা আছে। পশ্চিমবঙ্গের মানুষ রাজনৈতিক সচেতন। প্রত্যেক নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের মধ্যে দিয়ে রাজনৈতিক দল কিছু শিক্ষা নেয়, আমরাও নিয়েছি। আমি এটা মনে করি না যে, কোনও শিল্পী-সাহিত্যিক-চিত্রতারকা, তাঁরা রাজনীতি করতে পারেন না বা রাজনীতি বোঝেন না। কিন্তু, একটা বিষয় খুব গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করতে হবে যে, রাজনৈতিক তামাশা বলে একটি বিষয় আছে। আমরা এখানে রাজনৈতিক তামাশা দেখছিলাম। মানে কারা কাকে চ্যালেঞ্জ করছেন, কারা রাজনীতি করছেন ! সবার তো রাজনীতি করার কথা নয়। সবাই রাজনীতি করতে পারেন না। এটা কোনও ফুটবল ম্যাচ নাকি যে আমি দুই দলের মধ্যে পায়ে বল নিয়ে নেমে পড়লাম।"

‘মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়, এখন যিনি প্রাক্তন…’, বিজেপি জিতে গিয়েছে, এখনও বিশ্বাস হচ্ছে না শমীকের

নিখুঁত পরিকল্পনা। কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের একেবারে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা। সবকিছুর মিশেলেই এবার বাংলায় বিপুল জয় পেয়েছে বিজেপি। ১৯টি জনসভা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। ২৯ জনসভা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। বছর দু'য়েক আগে থেকেই পশ্চিমবঙ্গে জয়ের লক্ষ্য়ে সুনীল বনসলকে রাজ্য়ে পাঠিয়েছিলেন নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ। জয়ের নেপথ্যে অবদান কম নয় 'নির্বাচনী প্রভারী' হিসাবে ভূপেন্দ্র যাদবেরও।

বিজেপির স্বপ্নপূরণ হল। পশ্চিমবঙ্গ এখন বিজেপির। রাজ্য় এখন গেরুয়া-ময়। কিন্তু, বহু কাঙ্খিত এই জয় সহজে আসেনি। কৌশল থেকে পরিশ্রম...কিছুই বাদ দেয়নি বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব । ১৯টি জনসভা করেছেন নরেন্দ্র মোদি। ২৯ জনসভা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, করেছেন ১১টা রোড শো।