উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা : সন্তোষ পাঠক মানেই কংগ্রেস - এটাই গত দুই দশক ধরে জেনে এসেছে কলকাতার মানুষ। রাজ্যে দলের অবস্থা যতই ঢিলেঢালা হোক, হাত ছাড়েনি সন্তোষ। বাম জমানা থেকে লড়াই শুরু, তৃণমূল জমানাতেও সন্তোষ কংগ্রেসের হাত ধরে রেখেছেন। তবে ২০২৬ এ হল সেই সন্তোষ পাঠকই বিজেপি-তে। সকলকে অবাক করে শমীক ভট্টাচার্যের হাত থেকে নিলেন পদ্ম-পতাকা। হয়েছেন প্রার্থীও। চৌরঙ্গী কেন্দ্রে এবার তিনি বিজেপির হয়ে লড়ছেন। এবিপি আনন্দ-র প্রতিনিধি উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়কে সন্তোষ জানালেন, প্রথম প্রথম খারাপ লাগছিল, কিন্তু বিজেপির নেতাকর্মীরা যেভাবে তাঁকে আপন করে নিয়েছে, তাতে তিনি এখন মনে-প্রাণে বিজেপির। এত কিছু পরেও  সদ্য কংগ্রেসত্যাগী সন্তোষ পাঠক যা বললেন, তা চাঞ্চল্যকর। 

Continues below advertisement

 জোট বেঁধে লড়লে দল ছাড়তাম না

কলকাতা পুরনিগমে ৪ বার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়েছেন সন্তোষ পাঠক। সব মিলিয়ে দুই দশক ধরে কাউন্সিলর তিনি। লড়েছেন বিধানসভা ভোটেও। ২০১৬ ও ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনে কংগ্রেসের টিকিটেই  থেকে লড়েছিলেন সন্তোষ। কিন্তু বাম-কংগ্রেস জোট নিয়ে এখনও নস্ট্যালজিক যেন তিনি। বললেন, জোট বেঁধে লড়লে , এবারেও দল ছাড়তেন না তিনি !

Continues below advertisement

২০১৬ এবং ২০২১ সালে বামেদের হাত ধরেছিল কংগ্রেস। কিন্তু ২০২৬ এর নির্বাচনে কংগ্রেস কার সঙ্গে জোট করবে, বেশ কিছুদিন ধরেই  জল্পনা চলছিল। অবশেষে কংগ্রেস নেতৃত্ব জানিয়ে দেয়, পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনে  একলাই চলবে। এরপরই সন্তোষ পাঠক নিয়ে নেন বড় সিদ্ধান্ত। সন্তোষের কথায়, যেখানে হাওড়ায় কংগ্রেসের ২০ টা বুথেও কর্মী বসানোর মতো লোক ছিল না, তখন বুথে বুথে কোনও টাকা পয়সা ছাড়াই বসেছেন বামকর্মীরা। কংগ্রেসত্যাগী সন্তোষ পাঠক বলছেন,২০১৬ সালে হাওড়ায় তৃণমূলের পেশীশক্তির বিরুদ্ধে তাঁর হাত শক্ত করেছিলেন সিপিএমের কর্মীরাই।                     

২০০৫ সালে তিনি প্রথমবার কাউন্সিলর হয়েছিলেন। তখন লাল-জমানা। এরপর তৃণমূলের সময়তেও কংগ্রেসে থেকেই লড়াই করেছিলেন। বলছেন,এবারও যদি জোট হত দল ছাড়তেন না, বিজেপিতে যোগ দিতেন না। পরিকল্পনা ছিল, বাম-কংগ্রেস জোট হলে জোড়াসাঁকো থেকে লড়বেন ভোটে, জিতেও নেবেন আসন। কিন্তু  সন্তোষ পাঠকের সেই স্বপ্নপূরণ হল না। এখন তিনি বিজেপির সেনানি। এখন দেখার ২৯ এপ্রিল, চৌরঙ্গীর মানুষ কাকে বেছে নেন , তা জানা যাবে ৪ মে।