সুনীত হালদার, হাওড়া: ডোমজুড়ে বিজেপি প্রার্থীর 'দাদাগিরি', মাংস ব্যবসায়ীকে হেনস্থা! ডোমজুড়ে মুরগি মাংস বিক্রেতাকে 'হেনস্থা', বিজেপি প্রার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ। ব্যবসায়ীকে রোহিঙ্গা ও জেহাদি বলে আক্রমণ বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরার! এলাকা থেকে দোকান তুলে দেওয়ার অভিযোগ বিজেপির বিরুদ্ধে।

Continues below advertisement

'আমি যতদিন ভোটার হয়েছি, ততদিন ভোট দিচ্ছি এখানে। আমাদের লাভপুর বিধানসভা, আমি এখানে কলকাতায় কাজ করতে এসেছি', দাবি মুরগি ব্যবসায়ী টুটুল হোসেনের। 'এ বাংলার কোনও বাসিন্দা নয়, ব্যবসায়ী রোহিঙ্গা, জেহাদি', জেহাদি এসে আমার জায়গা দখল করে ব্যবসা করছে, দাবি বিজেপির। এটাই বিজেপির সংস্কৃতি, পাল্টা কটাক্ষ তৃণমূলের। 

ঠিক কী ঘটেছে? 

Continues below advertisement

ডোমজুড় বিধানসভাকেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরার বিরুদ্ধে এক মুরগির দোকানের মালিকের উপর চড়াও হবার অভিযোগ। প্রকাশ্যে ওই ব্যবসায়ীকে রোহিঙ্গা এবং জেহাদী বলে হুমকি দেয় বলে অভিযোগ। এমনকি দোকান উচ্ছেদ করে দেবার অভিযোগ ওঠে। আর এই নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূলের পক্ষ থেকে এই ঘটনার কঠোর সমালোচনা করা হয়েছে। 

ডোমজুড় বিধানসভা এলাকার জগদীশপুর মোড় এর কাছে প্রায় বছর দেড়েক ধরে ফুটপাতে মুরগির মাংস বিক্রি করেন টুটুল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী। তিনি আদতে বীরভূমের লাভপুরের বাসিন্দা। এই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী গোবিন্দ হাজরা ওই ব্যবসায়ীকে প্রকাশ্যে রোহিঙ্গা বলে এখান থেকে দোকান সরিয়ে নেবার হুমকি দেন বলে অভিযোগ। সেই দৃশ্য ক্যামেরাবন্দি হয়।

তিনি চিৎকার করে টুটুল হোসেনকে বলতে থাকেন তিনি এখানকার বাসিন্দা নয়, রোহিঙ্গা এবং জেহাদী। পরে তিনি ক্যামেরার সামনে একই অভিযোগ করেন। যদিও ওই মুরগির মাংস বিক্রেতা জানান তিনি বীরভূমের লাভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার। কিছুদিন আগে এসআইআর এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয় তাতেও তার নাম আছে। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া দেয় তৃণমূল কংগ্রেস।

রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী এবং হাওড়া সদর তৃণমূল কংগ্রেসের চেয়ারম্যান অরূপ রায় বলেন বিজেপির সংস্কৃতি এমনই। যেহেতু মুসলিমরা তাদের ভোট দেন না তাই যাকে তাকে তারা রোহিঙ্গা বলে তকমা দিচ্ছে। এসআইআর প্রক্রিয়ায় এখনো পর্যন্ত তারা রোহিঙ্গাদের শনাক্ত করতে পারেনি। এসব বাংলার মানুষ মেনে নেবে না। এদিন তিনি আরো বলেন বাঙালি আমিষ খাবে কি না খাবে তা  এরা জোর করে ঠিক করে দিচ্ছে। এটা ঠিক নয়। ভোটে মানুষ যোগ্য জবাব দেবেন।