উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়, কলকাতা: সপ্তাহ পেরোলেই ঘোষণা হয়ে যাবে বিধানসভা ভোটের দিনক্ষণ। তার আগেই, শনিবার ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ড থেকে ভোট লড়াইয়ের সুর কয়েকগুণ চড়ালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ব্রিগেডের ভিড় দেখে যখন উচ্ছ্বসিতও ছিলেন প্রধানমন্ত্রী। সেই সমাবেশেই দেখা মিলল চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তিনি স্বঘোষিত বামপন্থী। যদিও বেশ কয়েকদিন আগে তাঁর একটি সোশাল মিডিয়া পোস্ট ঘিরে জল্পনা শুরু হয়েছিল। তবে শনিবার ব্রিগেডে দেখা গেল চিকিৎসককে। 

Continues below advertisement

এবিপি আনন্দকে চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমার মনে হয় বাংলার প্রতিটা মানুষ এই সময় পরিবর্তন চায়। দুর্নীতি থেকে পরিবর্তন চায়, গত ১৫ বছরে শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে পরিবর্তন চায়। আমাদের আর্থিক অবস্থা যেভাবে শেষ করে দেওয়া হয়েছে সেখানে পরিবর্তন চায় মানুষ। পরিবর্তনের যাত্রায় আমি শামিল হতে পেরেছি সেটাই। 

এবিপি আনন্দের প্রশ্ন ছিল- এর আগে আপনাকে দেখা গিয়েছিল বামপন্থীদের মিছিলে, আজকে কি এই প্রথম বিজেপিতে আসা? উত্তরে চিকিৎসক বলেন, একদম, দেখুন, এটা আমি মনের তাগিদেই এসেছি। অবশ্যই আমন্ত্রণ পেয়েছিলাম। কিন্তু আমার মনে হয় এখন ডান বাম এসব ভাবলে চলবে না। হয় ভোট ফর টিএমসি বা নো ভোট ফর টিএমসি। বাংলা পিছিয়েই চলেছে। প্রত্যেক সফল বাঙালি এখন পরিযায়ী শ্রমিক। সুতরাং যারা পরিবর্তন আনতে পারবে আমি সকলকে অনুরোধ করব দল মত নির্বিশেষে আপনারা তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোট দিন। 

Continues below advertisement

চিকিৎসকের কাছে পরবর্তী প্রশ্ন ছিল, প্রতিবার নির্বাচনের আগে গুঞ্জন ওঠে আপনি সিপিএমএর প্রার্থী হচ্ছেন। গত লোকসভা নির্বাচনেও এই প্রশ্ন উঠেছিল। এবারে কি আপনাকে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে কোথাও দেখা যাবে? যদি বিজেপি চায়? উত্তরে ডা: নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'আমি ডাক্তার হিসেবে সফল। ডাক্তারিটা আমার প্যাশন, প্রফেশন। সুতরাং বাকিটা পরে ভাবা যাবে। প্রার্থী হওয়ার বিষয়টা আমার, পরিবার এবং সবার মতের বিষয়। তবে পরিবর্তন করতে গেলে যা যা করতে হবে সেটা করতেই হবে। 

তবে কি আজকে থেকে চিকিৎসক বিজেপি হয়ে গেলেন? উত্তরে বলেন, 'না একদম না। আমি Anti-TMC ছিলাম। Anti-TMC আছি, Anti-TMC থাকব।' বরাবরই বামপন্থী মনোভাবাপন্ন চিকিৎসক হিসাবেই পরিচিত নারায়ণবাবু। সেই তাঁকেই যখন ব্রিগেডে মোদির সভায় দেখা গেল তা নিয়ে জোর চর্চাও শুরু হয়। 

আর জি কর হাসপাতালের তরুণী চিকিৎসকের হত্যাকাণ্ডের সময় থেকে চিকিৎসক নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায় সরব ছিলেন।  জুনিয়র চিকিৎসকদের একাধিক মিছিল, রাত দখল কর্মসূচিতে রীতিমতো সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছে তাঁকে। শুধু তাই নয়, জুনিয়র চিকিৎসকের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়াতেও দেখা গিয়েছিল নারায়ণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে।