ব্রিগেডের সভা থেকে আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি (Prime Minister Narendra Modi) বলেন, 'বেছে বেছে সব হিসাব নেওয়া হবে'। আর সেই নিয়ে বলতে গিয়ে এদিন তৃণমূলের সাংবাদিক সম্মেলন থেকে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ বলেন, "আপনার হিসাব করতে গেলে আপনি কোথায় যাবেন?" আহত হয়েছেন, তারপরও এই সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজাও।
এই সাংবাদিক বৈঠকে গ্যাস শর্টেজ নিয়েও কথা বলতে শোনা যায় তৃণমূল নেত্রী সায়নী ঘোষকেও। "আজ এলপিজি শর্টেজ হয়েছে। গ্যাস বুক করলে বলছে ৪৫ দিন পরে পাবেন। একাধিক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মা-বোনের ট্যাংরা মাছের ঝাল না করে সেদ্ধ ডাল খাচ্ছেন এই ভেবে যে কাল গ্যাস ফুরিয়ে গেলে কী হবে? তাঁদের বলব এই সভায় চলে গেলে দেখতে পেতেন কচৌরি আর জালেবি ভাজার জন্য ২০০ থেকে ৩০০ সিলিন্ডার রাখা হয়েছে", সাংবাদিক বৈঠক থেকে বলেন সায়নী।
এদিনের সাংবাদিক বৈঠক থেকে তৃণমূলের দাবি, পশ্চিমবঙ্গের সব মিলিয়ে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা পাওনা রয়েছে কেন্দ্রের কাছে। সায়নী ঘোষ বলেন, "জল জীবন মিশনের টাকা, আবার যোজনার টাকা, ১০০ দিনের কাজের টাকা, সর্বশিক্ষা মিশনের টাকা, মিড ডে মিলের টাকা" আটকে রয়েছে কেন্দ্রের কাছে।
"বিজেপি শাসিত রাজ্যের যে কী অবস্থা তা বাংলার মানুষ খুব ভাল মতো জানেন", সাংবাদিক বৈঠক থেকে বলেন তৃণমূল সাংসদ সায়নী ঘোষ। বেকারত্ব নিয়েও এদিন প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের জবাব দিতেও দেখা যায় তৃণমূলকে। "পশ্চিমবঙ্গের বেকারত্বের হার সর্বনিম্ন। ৩.৭ শতাংশ", জানান তৃণমূল সাংসদ।
"দেশের প্রথম ৫টি মহিলাদের জন্য অনিরপদ রাজ্যের মধ্যে ৪টিই বিজেপি শাসিত রাজ্য অবস্থিত", নারী সুরক্ষা নিয়ে বিজেপিকে কটাক্ষ সায়নী ঘোষের। এর পাশাপাশি উঠে আসে রাজ্য পুলিশের পিঙ্ক পেট্রোলিংয়ের কথাও। সায়নী বলেন, "নারীকে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য এই রাজ্যে পিঙ্ক পেট্রোলিং হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী রাতের সাথী করেছেন"।
বিজেপির স্লোগান "পাল্টানো দরকার" নিয়েও এদিন কটাক্ষ করে তৃণমূল। সায়নী বলেন, "কী পাল্টানো দরকার? বিজেপির স্ট্র্যাটেজি পাল্টানো দরকার। মানুষ বাংলায় কথা বললে তাদের বাংলাদেশি বলছেন"। বিজেপির মমতা নেই, ক্ষমতা থাকতে পারে, কটাক্ষ তৃণমূলের সংসদের। তিনি আরও বলেন,"আপনাদের সব আছে। ক্ষমতা আপনাদের আছে। টাকা আপনাদের আছে। কিন্তু মমতা আপনাদের নেই"।
