পার্থপ্রতিম ঘোষ, কলকাতা : SSC মামলার তদন্তে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে ফের ইডি ( ED ) । ভোটের আগে প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর নাকতলার বাড়িতে পৌঁছল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। নিয়মমাফিক কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ( Partha Chattaerjee )পৌঁছন কেন্দ্রীয় এজেন্সি। 

Continues below advertisement

গোটা নাকতলা এলাকা ঘিরে ফেলেছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রীর বাড়ি ঘিরে রেখেছে তারা। তিনটি গাড়িতে করে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়িতে ED আধিকারিকরা এসে পৌঁছন। একই দিনে শিক্ষা দুর্নীতিতে অভিযুক্ত মিডলম্যান প্রসন্নকুমার রায়ের নিউটাউনের অফিসে হানা দিয়েছে ইডি। 

২০২২ সালের ২৩ জুলাই: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় পার্থ চট্টোপাধ্যায় ও তাঁর ঘনিষ্ঠ অর্পিতা মুখোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করেছিল ED. অর্পিতা মুখোপাধ্য়ায়ের দু'টি ফ্ল্য়াট থেকে নগদ ৫০ কোটি টাকা ও গয়না উদ্ধার ঘিরে তোলপাড় পড়ে যায় গোটা রাজ্যে। এরপর ২০২৫ সালের ১১ নভেম্বর, প্রায় ৩ বছর ৩ মাস পর বন্দি থাকার পর, জামিন পান তিনি। বর্তমানে অর্পিতা মুখোপাধ্যায় এবং পার্থ চট্টোপাধ্যায় দু'জনই জামিনে মুক্ত। ২০২৬ সালে ১৮ মার্চ, তদন্তের স্বার্থে তাঁকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট তলব করলেও তিনি উপস্থিত হননি। শারীরিকভাবে অসুস্থ আছেন বলে জানিয়েছিলেন। ১৬ তারিখ সালে অর্পিতা মুখোপাধ্য়ায়কেও তলব করা হয় ইডির তরফে। কিন্তু সেদিনের হাজিরা এড়ালেও ১৯ মার্চ জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হন তিনি। স্ক্যানারে কেন নাকতলার বাড়ি ? এর আগে, CBI-এর চার্জশিটে দাবি করা করা হয়েছে, দুর্নীতি মামলার ২ সাক্ষী পরিমল গড়াই ও শুভময় সিকদারের বয়ান থেকে জানা গেছে, পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের নাকতলার বাড়িতেই তৈরি হত অযোগ্য়দের তালিকা। SSC-র তৎকালীন চেয়ারম্যান সুবীরেশ ভট্টাচার্য প্রায়ই আসতেন সেখানে এবং সেখান থেকে তালিকা নিয়ে যেতেন। এজেন্ট এবং মন্ত্রীর মাঝে যোগসূত্র ছিলেন মিডলম্য়ান প্রসন্নকুমার রায়। যিনি মাঝে মাঝেই যেতেন পার্থ চট্টোপাধ্য়ায়ের বাড়ি। ২০২৪ সালেই প্রসন্ন রায়, তাঁর স্ত্রী ও তাঁদের সংস্থার নামে হোটেল-রিসর্ট মিলিয়ে ১৬৩ কোটি টাকার বেশি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়। সিবিআই চার্জশিটে কী ছিল? নিয়োগ দুর্নীতির মামলায়, আদালতে যে চার্জশিট জমা দেয় CBI, সেখানেও ছত্রে ছত্রে উঠে এসেছিল পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের নাম। চার্জশিটে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়, প্রাক্তন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্য়ায় প্রভাব খাটিয়ে, অযোগ্য় প্রার্থীদের নম্বরে গরমিল করিয়েছিলেন। চার্জশিটে দাবি করা হয়, SSC-র তৎকালীন উপদেষ্টা শান্তিপ্রসাদ সিন্হা-সহ জেলবন্দি ৪ আধিকারিক ও মিডলম্যান প্রসন্ন রায়ের সাহায্যে সেই কাজ তিনি করিয়েছিলেন।

Continues below advertisement