গৌতম মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ফলতায় পুনর্নির্বাচনের আজ রেজাল্ট আউট। মূলত, ২৯ এপ্রিল ভোট হয়েছিল দক্ষিণ চব্বিশ পরগনার ফলতায়। কিন্তু শেষ অবধি ব্যাপক কারচুপির অভিযোগে, সেই ভোট পুরোপুরি বাতিল করে দেয় নির্বাচন কমিশন। এরপর ফের ফলতায় পুনর্নির্বাচন ঘোষণা করা হয়। কিন্তু ভোটের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে নির্বাচন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেন ফলতার তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান। ভোটের আগে, ফলতা বিধানসভার বিজেপি প্রার্থী দেবাংশু পান্ডা-র সমর্থনে নির্বাচনী প্রচারে নামেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ৩৫ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে গত ২১ তারিখ সেখানে পুনর্নির্বাচন হয়। সকাল থেকেই পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ ছিল খোদ 'পুষ্পা'র বাড়ির এলাকা। ছিল কেন্দ্রীয় বাহিনীও। পুনর্নির্বাচনে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পুনর্নির্বাচনের সাক্ষী ছিল ফলতা। এবার ফলাফল জানার অপেক্ষায় প্রহর গোনা শুরু। ডায়মন্ড হারবার মহিলা বিশ্ববিদ্যালয়ে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ভোটগণনার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন ১৯ টেবিলে ২১ রাউন্ডে গণনা।

আরও পড়ুন, এটা পার্টি অফিস নয়, কারও বাপের জমিদারি নয়; পুরসভার অধিবেশন ঘিরে তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ সজল ঘোষের

 প্রশাসন সূত্রে খবর, গণনার জন্য মোট ১৯টি টেবিল রাখা হয়েছে এবং ২১ রাউন্ডে ভোটগণনা সম্পন্ন হবে।উল্লেখ্য, গত ২১ মে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হয়। সকাল থেকেই বিভিন্ন বুথে ভোটারদের দীর্ঘ লাইন দেখা যায়। কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৮৮ শতাংশ ভোট পড়ে এই নির্বাচনে, যা রাজনৈতিক মহলে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।প্রসঙ্গত, এর আগে গত ২৯ এপ্রিল ফলতা কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হয়েছিল। তবে সেই ভোটে একাধিক অনিয়ম ও বেনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে। বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ  হয়। অভিযোগ খতিয়ে দেখে কমিশন ফলতা কেন্দ্রে পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করে। এর মধ্যেই রাজ্যের রাজনৈতিক পালাবদল পরিস্থিতিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

নির্বাচনের আবহে বড় চমক আসে ভোটের ৪৮ ঘণ্টা আগে। ফলতা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী জাহাঙ্গির খান নিজেকে নির্বাচন থেকে সরিয়ে নেওয়ার ঘোষণা করেন। ফলে ২১ মের ভোটে কার্যত তৃণমূলকে সক্রিয়ভাবে নির্বাচনী ময়দানে দেখা যায়নি। অন্যদিকে বিজেপি প্রার্থীর সমর্থনে একাধিক জনসভা ও রোডশো করেন মুখ্যমন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। এই কেন্দ্রে সিপিএম ও কংগ্রেস প্রার্থীরাও প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন। এখন নজর রবিবারের গণনায়। ফলতার জনরায় শেষ পর্যন্ত কোন দিকে যায়।