নওদা, মুর্শিদাবাদ, পার্থ প্রতিম ঘোষ : ভোটের আগের রাতে মুর্শিদাবাদের নওদায় (Murshidabad) বোমাবাজির ঘটনায় রিপোর্ট তলব করেছে নির্বাচন কমিশন। অ্যাকশন টেকেন রিপোর্ট তলব করা হয়েছে কমিশনের (Election Commission of India) তরফে, এমনটাই খবর। এদিকে আজও বাকযুদ্ধ চলছে। নওদা বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মুমতাজ বলছেন, 'আজকেও সিটি বাজাচ্ছে। আজকে কি প্রচার করা যায়? কাল তো আমায় লক্ষ্য করেই বোম মেরেছিল। আমি এগিয়ে না গেলে, আমার গায়েই ফাটত। আমি যাওয়ার ২ মিনিটের মধ্যে বাইকে করে দু'জন চলে গেল বোমটা ফেলে দিয়ে। ওই সিটি বাজানো পার্টিরাই ফেলেছে।'
সাহিনা মুমতাজের অভিযোগের পাল্টা আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীর বলেছেন, তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরেই এই ঘটনা ঘটেছে। এর পাশাপাশি, সিটি বাজিয়ে প্রচার প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, 'সিটি আমার সিম্বল। বাজাতেই পারি। নির্বাচন কমিশন সেই অধিকার দিয়েছে।' ভোটের আগের দিনের বোমাবাজি প্রসঙ্গে হুমায়ুন বলেন, 'আমার মনে হচ্ছে, গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কারণে সফিউজ্জামানের গোষ্ঠী সাহিনা মুমতাজকে লক্ষ্য করে বোমা মেরেছে। এটা গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ফল। আম জনতা উন্নয়ন পার্টির কোনও দরকার নেই কাউকে বোমা মারার, আঘাত করার।' তবে গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সাহিনা মুমতাজ। তিনি বলেছেন, 'ওসব গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কিছু নেই। মিটে গেছে। আমরা ভোট একসঙ্গে করছি। আমি বাইরে থাকলে উনি কেন ভিতরে থাকবেন? আজও তো সিটি বাজাল। আজ কি প্রচার করার টাইম...'
হুমায়ুন কবীর প্রতিপক্ষ সাহিনা মুমতাজ সম্পর্কে এও বলেছেন, 'ভোটে হারবে জেনে গিয়েছে। নার্ভাস হয়ে গিয়েছে। যতই গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব করুক, নওদার মানুষ ওকে রিজেক্ট করে দিয়েছে। যেভাবে আমায় সম্মান করে সবসময় কথা বলে, আজ কথাই বেরোচ্ছে না। তার জন্য তো আমি দায়ী হতে পারি না। ৫ বছরের জন্য মানুষ ভোট দিয়েছিল। কলকাতায় থেকেছে। এখানকার মানুষের খোঁজ নেয়নি। ২ বছরের ফুটেজ বের করুন। বোঝা যাবে সাহিনা আর সফিউজ্জামানের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের কথা।'
কী ঘটেছে নওদায়
ভোটের আগের রাতে নওদার তৃণমূল প্রার্থী সাহিনা মুমতাজকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ার অভিযোগ উঠল হুমায়ুন কবীরের দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির বিরুদ্ধে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ এক কর্মীর বাড়ি থেকে ফিরছিলেন সাহিনা মুমতাজ। অভিযোগ, সেইসময়, শিবনগর প্রাথমিক স্কুলের বুথের কাছে তাঁকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়া হয়। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন তিনি। সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করলেও ইঙ্গিতপূর্ণভাবে হুমায়ুন কবীর বলেছেন, আমার লোককে কেউ পাথর ছুড়লে তাকে কি রসগোল্লা ছুড়বে? একটা ঢিল ছুড়লে দুটো পাটকেল খেতে হবে।
