কলকাতা: ভোটের মুখে ফের শিরোনামে I-PAC।  যা নিয়ে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। ২৩ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার প্রথম দফায় ১৫২টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে। তার ঠিক, ৪ দিন আগে, জল্পনা তৈরি হয়েছে যে, তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা Indian Political Action Committee বা I-PAC কি সাময়িকভাবে কাজ বন্ধ করল? সংবাদ সংস্থা ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তৃণমূলের ভোট কুশলী সংস্থা I-PAC, আগামী ২০ দিন পশ্চিমবঙ্গে কাজ বন্ধ করে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। সেই মতো HR বিভাগ থেকে কর্মীদের মেল করে ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে। ১১ মে পর্যালোচনা করে, পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে, তৃণমূলের তরফে I-PAC-এর কাজ বন্ধ রাখার খবরকে ভিত্তিহীন দাবি করে বলা হয়েছে। 

Continues below advertisement

আর এবার I-PAC এর আরেক ডিরেক্টরকে তলব ইডির। I-PAC এর ডিরেক্টর ঋষি রাজকে তলব ইডির। আজ দিল্লিতে ED-র সদর দফতরে তলব, সংস্থার বিরুদ্ধে একটি মামলার তদন্তে তলব ইডির, ANI সূত্রের খবর। 

এই ঘটনা নিয়েই এবার সুর চড়ালেন তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখল। তিনি বলেন, 'পশ্চিমবঙ্গ জয়ের ব্যাপারে নিজেকে আত্মবিশ্বাসী বলছেন অমিত শাহ। অথচ, তাঁর আচরণ হতাশাগ্রস্তের মত। ভোটের মুখে তিনজন I-PAC ডিরেক্টরকে তলব করা হয়েছে। প্রতিদিন রাজ্যে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের বাড়িতে ED ও IT তল্লাশি চালাচ্ছে। নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ শীঘ্রই ক্ষমতাচ্যুত হবেন। তাঁরাই আমাদের দেখিয়ে দিচ্ছেন ক্ষমতায় না থাকলে তাঁদের সঙ্গে কী আচরণ করা উচিত', I-PAC এর ডিরেক্টর ঋষি রাজকে ED-তলব প্রসঙ্গে এক্স হ্যান্ডল পোস্ট প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ সাকেত গোখলের। 

Continues below advertisement

ভোটের মুখে কুড়ি দিনের ছুটিতে যেতে বলা হয়েছে I-PAC-এর কর্মীদের। আপাতত কাজ বন্ধ রাখছে I-PAC. এমনটাই দাবি করা হয়েছে ডেকান হেরাল্ডের প্রতিবেদনে। এই খবর নিয়ে জল্পনায় যখন তোলপাড় হচ্ছে রাজ্য রাজনীতি, তখন তারকেশ্বরের সভায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা বলেছেন, 'আমাদের রোজই ED রেড করছে। তুমি আমাদের এজেন্সিগুলোকে বলছ, যারা আমাদের পার্টির কাজ করে, বাংলা ছেড়ে চলে যাও। কেন? তোমার তো ৫০টা আছে। আমাদের ক্ষমতা নেই, আমাদের ১টা আছে। শুনুন, ওদের ভয় দেখালে, ওরা আমার দলের সঙ্গে যুক্ত হবে এবং আমরা ওদের চাকরি দেব। আমি একটি ছেলেকেও চাকরি ছাড়া করব না। আমি সকালে অভিষেকের সঙ্গে কথা বলেই এসেছি'।

গত ১৩ এপ্রিল, হাওয়ালার মাধ্যমে প্রায় ৫০ কোটি বেআইনি লেনদেনের অভিযোগে, দিল্লি থেকে IPAC-এর অন্যতম ডিরেক্টর ও সহ প্রতিষ্ঠাতা ভিনেশ চান্ডেলকে গ্রেফতার করে ED। এরপরই এবার ডেকান হেরাল্ডের খবরে তীব্র জল্পনা তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, I-PAC কি তাহলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে পাততাড়ি গোটাচ্ছে? এর প্রভাব কি বিধানসভা নির্বাচনে পড়বে?