কলকাতা: রাজ্যে পালাবদল হতেই ভয়ঙ্কর ঘটনা। রাস্তায় গুলিতে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হল হেভিওয়েট বিজেপি প্রার্থীর আপ্তসহায়ককে। শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে কে বা কারা খুন করল? খুনের নেপথ্য়ে রাজনৈতিক কারণ রয়েছে, নাকি অন্য কিছু? বিজেপি-র একাংশ যখন সরাসরি তৃণমূলের দিকে আঙুল তুলছেন, সেই সময় সিবিআই তদন্ত চাইতে দেখা গিয়েছে তৃণমূলকে। এই ঘটনার জন্য প্রচারপর্বে নেতানেত্রীদের মন্তব্যের দিকে আঙুল তুলেছেন চন্দ্রনাথের মা। (Jago Bangla Headline Controversy)

Continues below advertisement

সেই আবহেই তৃণমূলের মুখপত্র ‘জাগো বাংলা’র একটি শিরোনাম নজর কেড়েছে সকলের, যেখানে ‘অত্যাচারীদের পাশে দাঁড়ান নেত্রীর নির্দেশ নেতা-কর্মীদের’ লেখা রয়েছে। শিরোনামের নীচে লেখা রয়েছে ‘সুপ্রিমোর বার্তা’। নবনির্বাচিত বিধায়কদের বৈঠকে মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় কী জানিয়েছেন, সেই নিয়েই প্রতিবেদনটি ছাপা হয়। তৃণমূলের ওই দলীয় বৈঠকে সংবাদমাধ্যম প্রবেশের অনুমতি পায়নি। ব্যানার হেডলাইনটি নিয়ে তাই প্রশ্ন উঠছে। (Mamata Banerjee)

আরও পড়ুন: তৈরি হচ্ছে হেলিপ্যাড, বিপুল আয়োজন, ২৫ বৈশাখ ব্রিগেডে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ, আসছেন মোদি-শাহ

Continues below advertisement

এবিপি আনন্দের স্টুডিওয় এ নিয়ে মুখ খোলেন প্যানেলে উপস্থিত রাহুল চক্রবর্তী। তিনি বলেন, “মৃত্যু সব সময়ই মর্মান্তিক। যে ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে কোনও ভাষায়, কিছু বলার জায়গা নেই। আমি এর তীব্র নিন্দা করছি এবং বাকি সকলের মতো এটাও মনে করি যে যারা এই কাজ ঘটিয়েছে, তাদের চরম শাস্তি হওয়া দরকার।”

আরও পড়ুন: বেআইনি অনুপ্রবেশকারীদের ফেরাতে বাংলাদেশের সহযোগিতা চাইল ভারত, ঢাকার তরফে আশঙ্কা…

‘জাগো বাংলা’র ওই শিরোনাম নিয়ে রাহুল বলেন, “অত্যাচারী না হয়ে অত্যাচারিত হলে মনে হয় ভাল হতো।” সংবাদকর্মীদের পরিভাষায় লেখার ক্ষেত্রে এই ধরনের ভুলকে ‘টাইপো’ বলা হয়। কিন্তু খবরটি প্রথম তুলে ধরার সময় পর্যন্ত ‘ভুল’ সংশোধন করা হয়নি। ডিজিটাল সংস্করণেও ভুল সংশোধন হয়নি বহু ক্ষণ। কিন্তু এবিপি আনন্দের সঞ্চালকের উচ্চারণে সামান্য হেরফের ঘটলে, সারা দিন আঙুল চালাতে গিয়ে কিছু এদিক ওদিক হলে, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় কম ব্যঙ্গ-বিদ্রুপ করেননি তৃণমূলের লোকজন। এমন ভুল যে হতে পারে, তা তৃণমূলেরও এবার বোঝা উচিত।

এর আগে, সরাসরি বলতে গিয়ে এবিপি আনন্দের সাংবাদিকের ‘স্লিপ অফ টাং’ হয়ে গিয়েছিল, যাতে পুলিশ জামিনের জন্য আবেদন করেছে, না করেনি, তা নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়। কথা শুনে মনে হয়েছিল জামিনের জন্য আবেদন জানায়নি পুলিশ। তাতে এবিপি আনন্দর ভাইস প্রেসিডেন্ট সুমন দের বিরুদ্ধে মামলা, চিঠি, কিছু বাকি থাকেনি। সুমন দের কেন জেল হবে না, সেই নিয়ে দু’ঘণ্টা ধরে সওয়াল করে যান রাজ্যের তৎকালীন অ্যাডভোকেট জেনারেল।

গত ১৫ বছরে এমন ভূরি ভূরি উদাহরণ রয়েছে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের গুজব রটেছিল। সেই সময় রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সেই সময় ছাত্রছাত্রী এবং অভিভাবকরা যাতে বিভ্রান্ত না হন, সেকথা মাথায় রেখে খবরটি সম্প্রচার করা হয়নি। গড়িয়াহাট থানায় বিষয়টি জানানো হয় যে, এই মর্মে গুজব রটেছে। অথচ সেই নিয়ে কোনও খবর না দেখানো সত্ত্বেও, এবিপি আনন্দের সাংবাদিককে পর পর তিন দিন লালবাজারে ডেকে, সকাল থেকে রাত অবধি, কখনও ১০, কখনও ১২ ঘণ্টা একটাই প্রশ্ন করা হয় যে, ‘সম্পাদক সুমন দে জানতেন, না জানতেন না?’ ‘বলেছেন, না বলেননি?’ ‘নিজের সিদ্ধান্তে গড়িয়াহাট থানায় গিয়েছিলেন, না যাননি?’ 

রাহুলের বক্তব্য, “যেটা ভুল সেটা ভুলই, যেটা ঠিক সেটা ঠিকই। যে করেছে, তার দায় তার।” পরে অবশ্য অনলাইন এডিশনে ‘অত্যাচারীদের পাশে দাঁড়ান নেত্রীর নির্দেশ নেতা-কর্মীদের’ পরিবর্তে লেখা হয় ‘অত্যাচারিতদের পাশে দাঁড়ান নেত্রীর নির্দেশ নেতা-কর্মীদের’।