কলকাতা: নির্বাচন যতই এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনৈতিক পারদ। পশ্চিমবঙ্গের ২টি বিরোধী রাজনৈতিক দল, তৃণমূল আর বিজেপি.. ২ দলেই তারকা রয়েছেন। আর আজ, ২টি দলেরই ২ তারকার প্রচারে উত্তপ্ত হল মেদিনীপুর। আজ শাসক দলের হলে প্রচারে আসেন, কোয়েল মল্লিক (Koel Mallick)। কোয়েল সদ্যই তৃণমূলে যোগদান করেছেন। ২০২৬-এর নির্বাচনে তিনি তৃণমূলের তারকা প্রচারক। আর আজ, বিনপুরে কোয়েল মল্লিকের প্রচারের পরেই, ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিরোধী প্রার্থী রাজেশ মাহাতোর সমর্থনে সেখানে সভা করলেন মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। তিনি বিজেপির তারকা প্রার্থী।

Continues below advertisement

কোয়েলের সভায় ভিড়

আজ বিনপুরে তৃণমূলের প্রচারে আসেন, অভিনেত্রী কোয়েল মল্লিক। তৃণমূলের তারকা প্রার্থী বীরবাহা হাঁসদার সমর্থনে বেলপাহাড়ির হদরা মোড় থেকে বেলপাহাড়ি হাসপাতাল মোড় পর্যন্ত রোড শো করেন তৃণমূলের তারকা প্রচারক কোয়েল মল্লিক। জনতাদের কাছে আবেদন জানান, তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার জন্য। শাসক দলকেই ফের একবার জেতানোর জন্য।

Continues below advertisement

মিঠুনকে দেখতে উচ্ছ্বাস

অন্যদিকে এদিন, ঝাড়গ্রাম জেলার গোপীবল্লভপুরে বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানকার মূল আকর্ষণই ছিলেন, মিঠুন চক্রবর্তী। দীর্ঘ কেরিয়ারের পরে, এখনও এক চুলও ফিকে হয়নি মিঠুনকে ঘিরে উন্মাদনা। তাঁকে দেখার জন্য সকাল থেকেই কাতারে কাতারে মানুষ ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন। হুডখোলা গাড়িতে করে যখন তিনি সভামঞ্চে প্রবেশ করেন, তখন 'মহাগুরু' স্লোগান ওঠে চারিদিকে। তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে সংলাপ বলেন মিঠুন, রাজনৈতিক কথাও বলেন মানুষের সঙ্গে। আজই বিনপুরে শাসক দল যখন কোয়েল মল্লিককে নিয়ে এসে প্রচারের ঝড় তুলেছে, ঠিক তখনই গোপীবল্লভপুরে মিঠুন চক্রবর্তীকে প্রচারে নিয়ে এসে, কার্যত পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিল বিরোধী শিবির। 

শাসক দলের উন্নয়ন ও তারকা জৌলুস, অন্যদিকে মহাগুরুর জনপ্রিয়তা ও পরিবর্তনের ডাক, দুই মিলে জঙ্গলমহলের এই আসনটিতে লড়াই এখন কার্যত সমানে-সমানে। প্রার্থীর বক্তব্য ও জনসমর্থন-প্রার্থী রাজেশ মাহাতো এদিন বলেন, 'মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিই বলে দিচ্ছে তাঁরা পরিবর্তন চাইছেন। 'মহাগুরু'-র উপস্থিতি আমাদের কর্মীদের মধ্যে নতুন শক্তির সঞ্চার করেছে।' মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যে সাধারণ মানুষের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন এবং প্রার্থীর জয়ের ব্যাপারে আশাপ্রকাশ করেন। নির্বাচনের দিন যত এগিয়ে আসছে, ততই চড়ছে রাজনীতির পারদ। শেষ হাসি কে হাসবে, সেটার উত্তর পাওয়া যাবে ৪ মে।