সুকান্ত মুখোপাধ্যায় : মোথাবাড়িতে বিচারকদের ওপর হামলাকাণ্ডের তদন্তে মালদায় যাচ্ছে NIA-র টিম। DIG-র নেতৃত্বে কলকাতা থেকে NIA-র ২৪ জনের একটি দল মালদার পথে রওনা দিয়েছে। ইতিমধ্যেই কলকাতায় এসেছেন NIA-র IG সোনিয়া সিং। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে মালদায় যাচ্ছে NIA-র টিম। আর কিছুক্ষণের মধ্যেই মালদায় ঢুকে যাবে তারা। প্রথম মোথাবাড়ি থানায় যাওয়ার কথা রয়েছে তাদের। মোথাবাড়ি ও কালিয়াচক থানা দু'টি মিলিয়ে মোট ১৯টি মামলা রুজু করা হয়েছে এই ঘটনায়। যার মধ্যে ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে NIA আজ প্রথম এই দু'টি থানায় যাবে। তদন্তকারী অফিসারদের সঙ্গে কথা বলে কেস সম্পর্কিত যাবতীয় নথি নেবেন বলে জানা যাচ্ছে। এই হামলার নেপথ্যে কারা ? কাদের গাফিলতিতে হামলা ? নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কার পরেও কেন জুডিশিয়াল অফিসারদের কাজের জায়গা বদল করা হয়নি ? এই সংক্রান্ত বিষয়গুলির তদন্ত করবে NIA। ৬ এপ্রিলের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেবে তারা।

Continues below advertisement

মোথাবাড়িতে অশান্তির ঘটনায় পুলিশের জালে মূল প্ররোচনাকারী আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলাম। প্রথমে বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে তাঁকে পাকড়াও করে CID। পরে ADG উত্তরবঙ্গ তাঁকে গ্রেফতারের কথা জানান। বাগডোগরা বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার মোফাক্কারুলের এক সহযোগী এক্রামুল বাগানি। মোথাবাড়িকাণ্ডে ইতিমধ্যেই ভাইরাল হয়েছে মোফাক্কারুলের ভিডিও। কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসে অশান্তির সময় গাড়ির মাথায় উঠে বক্তৃতা দিতে দেখা গেছে মোফাক্কারুলকে। পুলিশের দাবি, মোফাক্কারুলই ঘটনার মূল প্ররোচনাকারী। পুলিশ জানিয়েছে, কালিয়াচক ২ নম্বর বিডিও অফিসের সামনে উস্কানিমূলক ভাষণ দেন মোফাক্কারুল। সেই সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন বাগডোগরা বিমানবন্দরে ধৃত সহযোগী এক্রামুলও। পুলিশ জানিয়েছে, ধরপাকড় শুরু হতেই ২ জনেই বেঙ্গালুরু পালানোর চেষ্টা করছিলেন। আইনজীবী মোফাক্কারুল ইসলাম উত্তর দিনাজপুরের ইটাহারের বাসিন্দা। তাঁর বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানাতেই ৩টি মামলা রয়েছে। মোথাবাড়িতে অশান্তির ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১৯টি মামলা রুজু করেছে পুলিশ মোট ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।।

ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার প্রতিবাদে বুধবার দফায় দফায় উত্তপ্ত হয়ে ওঠে মালদহের মোথাবাড়ি, সুজাপুর-সহ বিভিন্ন এলাকা। বিক্ষোভের নামে চলে তাণ্ডব। এসআইআর-এর কাজে নিযুক্ত সাত জন বিচারককে কালিয়াচক-২ ব্লক অফিসের ভিতর গভীর রাত পর্যন্ত আটকে রাখা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে এসআইআর-এর কাজ করছিলেন এই জুডিশিয়াল অফিসাররা। ঘটনায় এক জুডিশিয়াল অফিসারের ভাইরাল অডিওয় শোনা যায়, 'আমাদের ওপর হামলা হয়েছে। আমাদের দিকে ইট ছোড়া হচ্ছে। আমার কিছু হলে হাইকোর্ট যেন আমার বাচ্চাদের দেখে। '

Continues below advertisement