কলকাতা: প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে ছিলেন ভবানীপুরের স্ট্রং রুমে। অবশেষে, রাত ১২টার পরে ভবানীপুরের স্ট্রং রুম থেকে বেরতেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। দীর্ঘক্ষণ স্ট্রং রুমের ভিতরেই ছিলেন তিনি। বাইরে এসে, বেশ কিছু বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন তিনি। প্রথমত তিনি জানান, যাঁরা স্ট্রেং রুম পাহারা দেবেন, তাঁদের জন্য বেশ কিছু সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করতে গিয়েছিলেন তিনি। পাশাপাশি অভিযোগ তোলেন, স্ট্রং রুমে ঢুকছে বহিরাগতরা, চেষ্টা হচ্ছে ভোট লুঠের!
স্ট্রং রুমে ৪ ঘণ্টা! কী ঘটল?
এদিন স্ট্রং রুম থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, 'যাঁরা স্ট্রং রুম পাহাড়া দিচ্ছেন, তাঁদের একটু বসার ব্যবস্থা করতে বলেছি। বলেছি একটু শৌচাগারের যাতে ব্যবস্থা থাকে, সবাই যেন সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পায়। সংবাদমাধ্যম ও যাতে স্ট্রং রুমের ভিতরের সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পায়, সেই ব্যবস্থা করা গেলে খুব ভাল হয়। তার জন্য বাইরে একটা সিসিটিভির প্রয়োজন। বাইরে সবার বসার জায়গা করা গেলে ভাল হয়। কে কোন পার্টির এজেন্ট, আমার কাছে সেটা কোনও ব্যাপার নয়। বাইরে ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে, এজেন্টরা ভিজছেন। শুধু এখানে নয়, সারা বাংলায় হওয়া উচিত।'
কেন রাতে ছুটে এলেন স্ট্রং রুমে? কী অভিযোগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের?
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, 'মানুষ বিশ্বাস করে ভোট দিয়েছে, তাদের ভোটটা তো রক্ষা করা উচিত। নেতাজি ইনডোরে আমরা যা দেখলাম, এরকম হলে তো মুশকিল। আমাদের কাছে ৬-৭টা অভিযোগ এসেছে, তাই ছুটে এসেছি। ৪ ঘণ্টা এখানে রইলাম। একজনকে বসিয়ে তারপরে যাচ্ছি। ওখানে একতরফা ফোর্স রয়েছে। রাজ্যপুলিশ নিজেদের দায়িত্ব পালন না করতে পারলে, এটা তাদের ব্যর্থতা। নেতাজি ইনডোর সহ অনেক জায়গায় স্ট্রং রুমে বহিরাগতরা ঢুকছে। সেটা দেখেই এই স্ট্রং রুমে ছুটে আসি। প্রথমে কেন্দ্রীয় বাহিনী তো আমায় ঢুকতেই দিচ্ছিল না। বললাম, 'আমার যাওয়ার অধিকার রয়েছে।' কিন্তু নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, নির্বাচনের প্রার্থী স্ট্রং রুমে যেতে পারেন। আমি তো সিল করা ঘরে যেতে চাই না। তার বাইরে যেতে চাইছি। তারপরে অনেকজনকে ফোন করে, অনুমতি নিয়ে আমায় ঢুকতে দিল।'
