কলকাতা: নিজে হেরেছেন, দল হেরেছেন। ভেঙে খানখান দুর্গ। তবুও গদি ছাড়তে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায়। এক সময়ে যে জনতা তাঁকে গদিতে বসিয়েছিলেন। এখন সেই জনতাই তাঁকে চেয়ার থেকে নামানোর পক্ষে স্পষ্ট রায় দিয়েছেন। কিন্তু জনাদেশ দেখেও চেয়ার ছাড়তে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি সাংবাদিক বৈঠকে জানিয়েছেন যে পদত্যাগ করবেন না মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকে। বার্তা দিয়েছেন, 'আমরা তো হারিনি। জোর করে, দখল করে যদি কেউ মনে করে আমাকে পদত্যাগ করতে হবে, তবে বলব না, সেটা হবে না।' আর এরপরই এই নিয়ে সোশ্য়াল মিডিয়ায় রশিকতা শুরু হয়েছে। কেউ সিনেমার দৃশ্য় মনে করিয়ে রসিকতা করছেন। কেউ মজাদার মিম বানিয়ে।  ভোটে হারার পরও, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের চেয়ার আঁকড়ে থাকা নিয়ে সোশাল মিডিয়ায় এখন এমনই সব মিমের বন্য়া। ভোটে হেরেও গদিতে বসে থাকতে চান মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। জনাদেশের পরও চেয়ার ছাড়তে তিনি নারাজ। মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের অবস্থান নিয়েই, সোশাল মিডিয়ায় ছুটছে রঙ্গ-রসিকতার ফোয়ারা। সোশাল মিডিয়ায় কেউ ভুলভুলাইয়া সিনেমার দৃশ্য় মনে করিয়ে দিয়েছেন। চেয়ার নিয়ে নাছোড় মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের মন্তব্য়কে কেউ ছেলেমানুষির সঙ্গে তুলনা করছেন। যে মিমে লেখা- লক্ষ্মীটি দিয়ে দাও অমন ছেলেমানুষি করে না। কেউ আবার বলছেন, এসব দেখে তো সেই ছেলেবেলার কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, যখন পাড়া ক্রিকেটে অলিখিত নিয়ম ছিল - যার ব্য়াট, যার উইকেট, সে কখনও আউট হয় না! কারও আবার মনে পড়ে যাচ্ছে ছোটবেলায় লুডো খেলার কথা। যে মিমে লেখা - ছোটবেলায় লুডো খেলায় হেরে আমিও জেদ ধরে থাকতাম। 

Continues below advertisement

মুখ্য়মন্ত্রীর চেয়ার নিয়ে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নাছোড় মনোভাব কাউকে কাউকে মনে করিয়ে দিয়েছে সোনার কেল্লার লালমোহনবাবুর কথাও। যে মিমে লেখা - আমিও ভোজালিটা ফিরে পেয়ে এটাই বলেছিলাম। সেই ছবিতে হারানো অস্ত্রটি ফিরে পেয়ে লালমোহনবাবু যেমন ছেলেমানুষি উচ্ছ্বাসে 'এটা আমার' বলে লাফিয়ে উঠেছিলেন, এখন মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের চেয়ার-প্রীতির মধ্য়েও তারই ছায়া দেখছেন বহু রসিক। চেয়ার আঁকড়ে থাকার মনোভাবের সঙ্গে কেউ মিল পাচ্ছেন বিনা রিজার্ভেশনে ট্রেনের সিট ধরে রাখার। যে মিমে লেখা - না আমি সিট ছাড়ব না। কারও মনে পড়ে যাচ্ছে ছোটবেলার ফেভিকলের বিজ্ঞাপন। সোশাল মিডিয়ায় কেউ আবার খোঁচা দিচ্ছেন, মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়েরই আমলে তৈরি সিভিক পদের প্রসঙ্গ টেনে। যে মিমে লেখা - ওনাকে কিছুদিন সিভিক মুখ্য়মন্ত্রী করে রেখে দিলে হয় না? তবে বাস্তবটা হল, ক্ষমতা আর নেই। শাসক তৃণমূলের চ্য়াপ্টার ক্লোজড। চেয়ার জনতাই কেড়ে নিয়েছে। কিনতু, সেই রায় না মেনে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায় কি মানুষকেই অপমান করছেন না?

Continues below advertisement