কলকাতা : “আমি হারিনি, তাই রাজভবনে যাব না। আমি পদত্যাগও করব না।” - বিপুল মার্জিনে হেরে যাওয়ার পরও মুখ্যমন্ত্রী পদ থেকে ইস্তফা দিতে নারাজ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । বললেন, 'কাউন্টিং সেন্টারও হাইজ্যাক করে নেওয়া হয়েছিল। ভোটে হার-জিত আছে, কিন্তু আমরা হারিনি, জোর করে দখল করেছে। ' বিস্ফোরক অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে তিনি ভোটে হার নিয়ে ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং টিম গঠনের ঘোষণা করেন।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও বলেন, “আমি চেয়ারের পরোয়া করি না, মানুষের কথাই ভাবি। ইঞ্চি ইঞ্চি লড়াই করেছি আমরা। আমাদের লড়াই শুধু বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধেও। কমিশন যদি নিরপেক্ষ না থাকে, যদি বিচারব্যবস্থা থেকেও ন্যায় না মেলে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে গণতন্ত্র নিয়েই। '' তিনি বলেন, ''জোর করে দখল করার পর কেউ যদি মনে করে আমি পদত্যাগ করব, তাহলে তারা ভুল ভাবছে। আমি এখনও মনে করি, এই জয় জোর করেই ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।” মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ' ওরা এমনি জিতলে আমার কোনও অভিযোগ থাকত না। আমরা তো হারিনি। জোর করে ক্যাপচার করেছ। বিশ্বের কাছে ভুল মেসেজ যাচ্ছে যে আপনি গণতান্ত্রিকভাবে জিততে পারেন না। উই উইল বাউন্স ব্যাক। '
ভোটে পরাজয়ের পর সাংবাদিক বৈঠক থেকে নির্বাচন কমিশনকেই সরাসরি নিশানা করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি অভিযোগ করেন, “এই লড়াই বিজেপির বিরুদ্ধে ছিল না, ছিল নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে।” তাঁর দাবি, কমিশন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে এবং “একটা কালো ইতিহাস তৈরি করেছে।” মমতার বক্তব্য, “মানুষের ভোটাধিকার লুঠ করা হয়েছে। ভোটের আগে সব জায়গায় রেড করে, অফিসারদের বদলে দেওয়া হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বিজেপি আর নির্বাচন কমিশনের মধ্যে বোঝাপড়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ভোট লুঠ করা হয়েছে।”
৩ বারের মুখ্যমন্ত্রী, তাও মানুষের রায় মানতে নারাজ মমতা। না সরলে, ৭ তারিখেই তো মেয়াদ শেষ। এভাবে জনাদেশকে অপমান করা যায় না, পাল্টা আক্রমণ শানাল বিজেপি।
