শিবাশিস মৌলিক, আশাবুল হোসেন, কলকাতা : মালদার মোথাবাড়িতে বুধবার দিনভর অশান্তি ও উত্তেজনার ঘটনায় তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। বুধবার মোথাবাড়িতে সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ সন্ধ্যা গড়াতেই রণক্ষেত্রের চেহারা নেয়। এই ঘটনার নেপথ্যে কারা, তা নিয়েই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বৈষ্ণবনগরের সভা থেকে স্পষ্ট বলে দেন 'আজকে বাংলা রাজ্যটাকে বদনাম করে দিল। যদিও আমার হাতে কিছু নেই। আইনশৃঙ্খলা আমার হাতে নেই।'
ঘটনার সূত্রপাত হয় সকালে, যখন ঝাঁটা হাতে রাস্তায় নামেন একদল মহিলা। পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হতে থাকে। সন্ধ্যার পর তা ভয়াবহ আকার নেয়—উন্মত্ত জনতা জুডিশিয়াল অফিসারদের ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে শেষমেশ গভীর রাতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তায় এলাকা ছাড়তে বাধ্য হন জুডিশিয়াল অফিসাররা।
এই ঘটনায় সরাসরি 'মুখ্যমন্ত্রীর উস্কানিমূলক মন্তব্য'কেই দায়ী করেছে বিজেপি। তাদের অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পূর্ববর্তী কিছু মন্তব্যই এই অশান্তির মূল কারণ। বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদারের কটাক্ষ “পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রীরই। উস্কানির ফলেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।” পাল্টা বিজেপির অভিযোগের তির মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকেই। তিনি বলেন, 'মুখ্যমন্ত্রী... ওই বলে না, ঠাকুর ঘরে কে? আমি কলা খায়নি। সেই অবস্থা। পরিকল্পনা মুখ্যমন্ত্রীর।'
মুখ্যমন্ত্রীর কোন মন্তব্য বিতর্ক? বিজেপির দাবি, গত ২৬ মার্চ এক সভায় মুখ্যমন্ত্রী মানুষকে ‘রুখে দাঁড়ানোর’ বার্তা দিয়েছিলেন, যা পরোক্ষে উস্কানির সামিল। ডাবগ্রাম ও অন্যান্য সভাতেও একই ধরনের মন্তব্য করেছিলেন তিনি—এমনটাই অভিযোগ গেরুয়া শিবিরের। ঠিক কী বলেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী? সপ্তাহখানেক আগেই গত ২৫ মার্চ, ডাবগ্রামের সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রী বলেছিলেন, 'যদি মনে করে বাইরে থেকে এজেন্সি এনে ছাপ্পা করবে মা বোনেদের বলব যে রাঁধে সে চুলও বাঁধে। ছেলেদের পিছনে রাখবেন। আপনারা সামনে থাকবেন। আর কী কী দিয়ে কী করতে হয় আপনারা সব জানেন। ' যদিও এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার সাগরদিঘির সভা থেকে তিনি স্পষ্ট বার্তা দেন, “আমায় বিশ্বাস করলে কোনও প্ররোচনায় পা দেবেন না।” একইসঙ্গে তিনি সতর্ক করেন, “কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিলে কেন্দ্রীয় সংস্থা যেমন সিবিআই বা এনআইএ গ্রেফতার করতে পারে।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা তাঁর হাতে নেই, ফলে এই ঘটনার দায় তাঁর ওপর চাপানো ঠিক নয়। তবে বিজেপির যুক্তি, জেলায় জেলায় ঘুরে বিভিন্ন প্রচার সভা থেকে মুখ্যমন্ত্রীর ধারাবাহিকভাবে উস্কানিমূলক মন্তব্যের জেরেই মোথাবাড়ির মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে, মালদার এই অশান্তিকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর চরমে। নির্বাচনের মুখে এই ঘটনা রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
