বড়ঞা : ভোটবঙ্গে তৃণমূলের বড় হাতিয়ার লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। কিন্তু কী থেকে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাবনা মাথায় এসেছিল, বড়ঞার সভায় জানালেন তৃণমূলনেত্রী।
মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় বলেন, "লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেন করেছিলাম জানেন মা-বোনেরা ? নোটবন্দির সময় আমি দেখেছিলাম, যখন নোটবন্দি হল, আধঘণ্টার মধ্যে আমি প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলাম। কেন জানেন ? আমি বলেছিলাম, এতে মানুষের ক্ষতি হবে। আমার কাছে অভিষেকের মা ছুটে এল। আমার কাছে থাকে। বলল, দিদি দিদি আমাকে ৫০০ টাকা দেবে ? আমি বললাম কেন ? সব টাকা তো জমা করে দিতে হবে। এই টাকা তো চলবে না, তাহলে আমি বাজার করব কী করে ? একটি মেয়ে সে বেঙ্গালুরুতে থাকে। সে আমাদের বাড়িতে আসে। আমাকে এসে বলল, আমাকে ২০০ টাকা দেবে ? আমি বললাম, কী করবে ? বলল, আমার কাছে তো এক টাকাও নেই। আপনাদের যতটুকু জমা পুঁজি মায়েরা লুকিয়ে রাখেন, দুঃসময়ে কাজে লাগবে বলে সব নিয়ে নিয়েছিল। তাই আমি সেদিন ঠিক করেছিলাম, যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মা-বোনদের উপহার। আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করে দেব। আমার নিজেরও একটা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আছে। সেটাতে ৫টাকা, ১০ টাকা যা পাই জমাই। আমার বাড়িতে মা কালী পুজো হয়, ওই টাকা জমিয়ে আমি বছরে একটা না একটা কিছু মা-কে দিই।"
আরও একটা ভোট। এবারও জনমুখী একাধিক প্রকল্পকে হাতিয়ার করে বিরোধীদের পরাস্ত করতে চাইছে তৃণমূল। আর এক্ষেত্রে তৃণমূলের অন্যতম 'হাতিয়ার' অবশ্যই 'লক্ষ্মীর ভাণ্ডার'। ২০২১-এর বিধানসভা ভোটে লক্ষ্ণীর ভাণ্ডার প্রকল্প ডিভিডেন্ড দিয়েছিল তৃণমূলকে। মহিলাদের ঢালাও সমর্থন পেয়ে তৃতীয়বার ক্ষমতায় এসেছিল রাজ্যের শাসকদল। এবারও সেই অস্ত্রতেই শান দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রত্যাশা মতোই বাড়ানো হয়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মাসিক বরাদ্দ। এই স্কিমে একলাফে বেড়ে গেছে অনেকটা টাকা। লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে বরাদ্দ বেড়েছে ৫০০ টাকা । অন্তর্বর্তী বাজেটে বড় ঘোষণা করে রাজ্য সরকারের। সাধারণ মহিলাদের জন্য মাসে ১৫০০ টাকা করে, এসসি-এসটি-দের ১৭০০ টাকা করে বরাদ্দ করা হয়েছে।
তৃণমূলের ইস্তেহার প্রকাশের দিনও মমতা বলে দিয়েছিলেন, "লক্ষ্মীর ভাণ্ডার বৃদ্ধি আমরা করেছি। এবং বলে দিয়েছি, সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাবে।" এর পাশাপাশি নাম না করে বিজেপিকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেছেন, "যদি কেউ বলে আমরা করব, তারা ভোটের সময় বলবে, কিন্তু পরে করবে না। কিন্তু, আমরা করে দেখিয়েছি। এবং একমাস আগেই করে দিয়েছি।"
