কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা : ভোট যুদ্ধের আগে কথার যুদ্ধে তেতে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া প্রায় শেষের পথে। সোমবার পঞ্চম সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এরই মধ্যে ভিনরাজ্য থেকে ভোটার ঢোকানো হচ্ছে বলে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলে সরব হয়েছে তৃণমূল। সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে গিয়ে তীব্র আক্রমণ শানান অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আর ঠিক তার পরদিনই দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারকে ফের চিঠি লিখলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তিনি চিঠি দিয়েছেন তৃণমূল - সুপ্রিমোর পদের লেটারহেড থেকে। জ্ঞানেশ কুমারকে লেখা চিঠিতে এবার মারাত্মক অভিযোগ এনেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, বাইরের লোকেদের ভোটার তালিকায় ঢোকানোর চেষ্টা হচ্ছে। তিনি আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন, এভাবেই ভিন রাজ্য থেকে লোকের নাম ঢুকিয়ে দেওয়া হতে পারে পশ্চিমবঙ্গের ভোটার লিস্টে।
আরওপড়ুন : এখনও কেউ কেউ যুবসাথী পাননি কেন, কবে পাবেন? কী হবে? বড় ঘোষণা মমতার
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তৃণমূলনেত্রী হিসেবে চিঠি দিয়ে কমিশনকে লিখেছেন, এভাবেই মানুষের গণতান্ত্রিক ও মৌলিক অধিকার খর্ব করছে কমিশন। তাঁর অভিযোগ, Form 6-এ কারচুপি করে ভিনরাজ্যের ভোটারদের ঢোকানো হচ্ছে। বিজেপি বিভিন্ন জেলা থেকে প্রচুর ফর্ম ৬ জমা করেছে কমিশনের অফিসে। এবং সেই সংখ্যাটা হাজার হাজার ! মঙ্গলবার চন্দ্রকোণার প্রচারসভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করেন, বিহার, রাজস্থান, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ থেকে নাম এনে ঢোকানোর চেষ্ট হচ্ছে। তাঁর দাবি, সোমবারও নির্বাচন কমিশনে ৩০ হাজার নাম জমা দিয়েছে বিজেপি। এই বিষয়টিতে নজর আনতেই সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে চিঠি লেখেন তিনি। তিনি সরাসরি অভিযোগ করেন, এই ধরনের প্রবণতা এর আগে বিহার, মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা, দিল্লির ভোটেও একই প্রবণতা ধরা পড়েছিল। এটা হয়ে থাকলে, বেআইনি, অসাংবিধানিক ও অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ। এটা কমিশনের মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা হওয়া উচিত নয়। ফের জ্ঞানেশ কুমারকে এই মর্মেই কড়া চিঠি দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি লিখেছেন, 'সূত্র মারফত খবর মিলেছে, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতর-সহ বিভিন্ন জেলায় বিপুল সংখ্যক 'ফর্ম 6' জমা দিচ্ছে বিজেপির এজেন্টরা। এগুলি সাধারণ ভোটারের নাম তোলার আবেদন বলে মনে হচ্ছে না, বরং এখানকার বাসিন্দা নয়, এমন ভোটারদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার কৌশল। আশঙ্কা রয়েছে, এদের অনেকেই প্রকৃতপক্ষে পশ্চিমবঙ্গের বাসিন্দা নন এবং রাজ্যের সঙ্গে তাদের কোনও সম্পর্ক নেই। বিহার, হরিয়ানা, মহারাষ্ট্র ও দিল্লির নির্বাচনের আগেও এমন ঘটনা দেখা গিয়েছিল।'
সব মিলিয়ে ভোটের মুখে তৃণমূলের নতুন অভিযোগ ঘিরে রাজনৈতিক আকচাআকচি চরমে।
