কমলকৃষ্ণ দে, সমীরণ পাল, কলকাতা : ২০২১ সালে রাজ্যের সব মহিলাদের জন্য 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' প্রকল্প চালু করেছিল তৃণমূল সরকার। এই প্রকল্প তৃণমূলের সফলতম প্রকল্পগুলির অন্যতম ! এবারও ভোট-প্রচার সভা থেকে বারবার সবাইয়ের হাতে-হাতে লক্ষ্মীর ভান্ডারের টাকা আজীবন পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন তিনি। অথচ তাঁর দলেরই এক নেত্রীর সরাসরি হুমকি, যাঁদের বাড়ির দেওয়ালে পদ্ম আঁকা আছে,মুছে না ফেললে তাঁর বাড়ির লক্ষীর ভাণ্ডার বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনই কথা শোনা গিয়েছে মেমারির তৃণমূল নেত্রীর ।
মেমারি ১ নং ব্লক তৃণমূলের মহিলা সভানেত্রী গীতা দাসের এই মন্তব্য ঘিরেই শুরু হয়েছে রাজনৈতিক বিতর্ক। মেমারি বিধান সভার তৃণমূল প্রার্থী রাসবিহারী হালদারের সমর্থনে কয়েক দিন আগে সভা করেন দেব ।দেব সেখানে আগে সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মেমারি এক নম্বর ব্লকের মহিলা সভানেত্রী গীতা দাস বলেন, যার বাড়ির দেওয়ালে পদ্ম আঁকা থাকবে, না মুছে দিলে তার বাড়ির লক্ষী ভান্ডার বন্ধ করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি আরও বলেন, 'মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিন্দে করছিস তোদের লজ্জা হওয়া উচিত। আর লজ্জা কেন হবে ওরা তো মোদির কাছে পাচ্ছে মদ, মাংস খাবার টাকা। মদ, মাংস খাবার টাকা নিচ্ছে আর দেওয়ালে পদ্মফুল আঁকছে। তাই বলছি বিজেপি ভোট চাইতে বাড়ি গেলে তখন ঝাঁটা নিয়ে তাড়া করবেন।'
এই মন্তব্যে রীতিমতো শোরগোল পড়ে যায়। মানুষ এই হুমকির জবাব এবার ব্যালটে দেবে, পাল্টা জবাব দেয় বিজেপি। অন্যদিকে সিপিএমও কটাক্ষ করে ছাড়েনি। বলে, এটা একধরনের গণতন্ত্রের উপর হুমকি!
এদিকে মঙ্গলবার, হাবড়ার জনসভাতেও মুখ্যমন্ত্রীর মুখে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের কথা। বললেন, 'এ রাজ্যে সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার থাকবে। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে সারাজীবন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার। আপনাদের সাহায্য় ছাড়া আমাদের সরকার হবে না। সব উন্নয়ন প্রকল্প চালু রাখতে চাইলে আমার মুখ দেখে ভোট দিন'। হাবড়ার সভা থেকে এমনই বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
আরও পড়ুন : রাজ্যেতালিকা থেকে বাদ প্রায় ৯১ লক্ষ ! কোন কোন জেলা থেকে সবথেকে বেশি নাম বাদ?
শাসকদল হোক বা বিরোধী, কেন্দ্রে হোক কিংবা রাজ্যে, মহিলা ভোটব্যাঙ্কের দিকে নজর থাকে সবার। সামনেই যখন পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা ভোট। তাই এ রাজ্যে প্রচারে এসে মহিলা সংরক্ষণ আইনে সংশোধনী বিলের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের সব মহিলারা যাতে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়ে থেকে এর সুবিধা পান, সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে, বললেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
