নওদা : ভোটগণনার রাতেই বড় পদক্ষেপ পুলিশের। বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফা মোটের উপর শান্তিপূর্ণ হলেও, নওদা এলাকায় অশান্তির জেরে গ্রেফতার হলেন এক তৃণমূল নেতা। ধৃত শফিউজ্জামান মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ। নওদা ব্লকের তৃণমূল সভাপতি। হাবিব মাস্টার নামেও পরিচিত এই নেতা প্রথম দফার ভোটের দিন, অর্থাৎ ২৩ এপ্রিল, আমজনতা উন্নয়ন পার্টির এক নেতার সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন। এই বচসা থেকেই উত্তেজনা ছড়ায় এবং পরিস্থিতি অশান্ত হয়ে ওঠে।
প্রথম দফার ভোটে শিবনগরে একটি ভোটগ্রহণ কেন্দ্রে হুমায়ুন কবীর উপস্থিত হলে তাঁকে ঘিরে স্লোগান দিতে থাকেন তৃণমূল কর্মীরা। কেন্দ্রীয় বাহিনীর সামনে লাঠি নিয়ে ভাঙচুর করা হয় হুমায়ুন কবীরের কনভয়ের গাড়ির কাচ। আক্রান্ত হন তাঁর দলের এক কর্মী। পাল্টা তৃণমূল কর্মীদের উদ্দেশে লাঠি হাতে তেড়ে যান হুমায়ুন কবীরের অনুগামীরা। হয় ইটবৃষ্টিও। শুধু তাই নয়, কেড়ে নেওয়া হয় কেন্দ্রীয় বাহিনীর লাঠি, তুমুল উত্তেজনা তৈরি হয়। যার জেরে রণক্ষেত্রের চেহারা নেয় মুর্শিদাবাদের নওদা। কেন্দ্রীয় বাহিনী দুপক্ষকে সরিয়ে দিলে রাস্তাতেই চেয়ার নিয়ে বসে পড়েন হুমায়ুন কবীর। তাঁকে পাখার বাতাস করতে থাকেন অনুগামীরা । কিছুটা দূরে পাল্টা রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন তৃণমূলের নওদার বুথ সভাপতি সফিউজ্জামান শেখ। তাঁকেও পাখার বাতাস করতে থাকেন তৃণমূল কর্মীরা। শফিউজ্জামান হুঙ্কার ছাড়েন, 'হুমায়ুনকে দাদাগিরি করতে দেব না। পৌনে ১০টা অবধি নওদায় শান্তিপূর্ণ ভাব ভোট চলেছে। কোথাও কোনও অশান্তি ছিল না। হুমায়ুনের দাদাগিরি চলতে দেব না। তাকে ভোট লুঠ করতে দেব না।'
ঘটনার প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশন পুলিশকে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয়। এরপর নওদা থানা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে। অবশেষে ভোটগণনার রাতেই অভিযুক্ত শফিউজ্জামানকে গ্রেফতার করা হল।
সোমবার ফলঘোষণার পর দেখা যায়, ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে হুমায়ুন কবীর মুর্শিদাবাদ জেলার রেজিনগর এবং নওদা—এই দুটি কেন্দ্র থেকেই তাঁর নবগঠিত দল আম জনতা উন্নয়ন পার্টির (AJUP) প্রার্থী হিসেবে দাঁড়াম। উভয় কেন্দ্রেই তিনি বিজেপি প্রার্থীদের পরাজিত করেন । হুমায়ুন কবীর নওদা আসনে ৮৬,৪৬৩টি ভোট ও রেজিনগর আসনে ১,২৩,৫৩৬টি ভোট পান।
