কলকাতা : গতবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নন্দীগ্রাম থেকে হারিয়েছিলেন। এবার সেখানেই শুভেন্দু অধিকারীকে প্রার্থী করেছে বিজেপি। তাই, তাঁর বিরুদ্ধে এবার কাকে তৃণমূল দাঁড় করাবে তা নিয়ে চর্চা ছিল। তবে, শুভেন্দুকে বেগ দেওয়ার জন্য এই কেন্দ্রে বড় কোনও চমক দিতে চলেছে রাজ্যের শাসক দল, এমন জল্পনা ছিল। সেইমতো দেখা গেল, আজ সকালে বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া পবিত্র করকে প্রার্থী করল তৃণমূল।
কে এই পবিত্র কর ?
আগে তৃণমূল কংগ্রেসে ছিলেন। নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের বয়াল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূলী প্রধান ছিলেন। পরে ২০২০ সালে দিলীপ ঘোষের হাত ধরে তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। এখন তিনি বিজেপির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সহ সভাপতি ছিলেন। বিজেপি পরিচালিত বয়াল ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য এবং তাঁর স্ত্রী শিউলি কর এই পঞ্চায়েতের প্রধান। তিনিও বিজেপি সদস্য। বলা হয়, বিজেপির মধ্যে যারা কড়া হিন্দুত্ববাদী নেতা রয়েছেন., তাঁদের মধ্যে এই পবিত্র কর একজন। শুধু তাই নয়, নন্দীগ্রাম ২ নম্বর ব্লকের সংগঠনের অনেকটা এই পবিত্র কর দেখভাল করতেন। অর্থাৎ নন্দীগ্রামটা তিনি ভাল করে চেনেন। সেই কারণে, বিজেপি থেকে ভাঙিয়ে নিয়ে এসে তৃণমূল তাঁকে শুভেন্দুর বিরুদ্ধে প্রার্থী করল। এই পবিত্র কর একজন তৃণমূল কর্মী খুনেও অভিযুক্ত। ২০২০ সালে তিনি যখন তিনি যখন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে যোগ দিলেন, এরপর ২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের আগে একটা খুন হয় বয়ালে। রবিন মান্না নামে একজন তৃণমূল কর্মী খুন হন, সেই খুনের মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ এই পবিত্র করকে গ্রেফতার করেছিল। পবিত্র কর সেই সময় ছয় মাস জেলে ছিলেন। এরপর তিনি জামিন পান। সেই মামলা এখনও চলছে। যখন তৃণমূল কর্মী খুন হয়েছিলেন, সেই সময় পবিত্র বিজেপি নেতা ছিলেন। সেই পবিত্র করই আজ সকালবেলায় বিজেপি থেকে তৃণমূলে যোগ দিলেন। আর বিকাল বেলায় তাঁকে নন্দীগ্রামের প্রার্থী ঘোষণা করা হল।
এদিকে, গতকাল ভবানীপুর কেন্দ্রে বিজেপি তাদের প্রার্থী হিসাবে শুভেন্দু অধিকারীর নাম ঘোষণার পর, এদিন প্রত্যাশা মতোই এই আসনে তৃণমূলপ্রার্থী হিসাবে নাম ঘোষণা হল মমতা বন্দ্য়োপাধ্যায়ের। আগেই ভবানীপুর থেকে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন তৃণমূলনেত্রী। সেইমতো এদিন দলীয় সাংবাদিক বৈঠকে ভবানীপুর কেন্দ্র থেকে তৃণমূলপ্রার্থী হিসাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়েরই নাম জানিয়ে দেওয়া হয়। এরপর থেকে জোর চর্চা শুরু হয়েছে, এই কেন্দ্রের ভবিষ্যৎ কী হতে চলেছে। কারণ, গতবার নন্দীগ্রামে বাজিমাত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। এবার কী হবে ?
