শিবাশিস মৌলিক, কোচবিহার : নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার পর প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গে আসছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ৫ এপ্রিল, আজ কোচবিহারে সভা করবেন তিনি। সকাল থেকেই প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থলের আশপাশে রয়েছে প্রচুর মানুষের ভিড়। কোচবিহার-সহ পার্শ্ববর্তী অন্যান্য জেলা থেকেও এসেছেন অনেকেই। তাঁর ভিড় করেছেন কোচিবিহার রাস মেলার মাঠে। মাথাভাঙা থেকে এসেছেন অনেকে। তাঁদের সঙ্গে রয়েছে একটি ফ্লেক্স। সেখানে লেখা 'শ্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি ধাম'। কোচবিহারের মাথাভাঙায় তৈরি করা হয়েছে এই ধাম।
কবে তৈরি হল এই ধাম? কেনই বা তৈরি হল?
এই ধামের প্রতিষ্ঠাতা জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে মাথাভাঙায় তৈরি হয়েছে এই 'শ্রী শ্রী নরেন্দ্র মোদি ধাম'। ১৭ সেপ্টেম্বর নরেন্দ্র মোদির ৭৫তম জন্মদিনে ৭৫ কিলোর কেক কেটেছিলেন ওই ব্যক্তি। সেই সঙ্গেই প্রতিষ্ঠা করেছিলেন মন্দির। সেখানে রয়েছে নরেন্দ্র মোদির মূর্তিও। পুজোয় হয় সেখানে। ধামের প্রতিষ্ঠাতা ওই ব্যক্তি বলেছেন, 'সেদিন একটা শপথ করেছিলাম। যতদিন না নরেন্দ্র মোদির চরণ দর্শন পাই, ততদিন ভাত-রুটি খাব না। সেই থেকে আজ অবধি ভাত-রুটি খাইনি। চরণ স্পর্শ না করে ভাত-রুটি খাব না।' এই ব্যক্তির নাম প্রফুল্ল বর্মণ। কোচবিহারের মাথাভাঙা বিধানসভার পারাডুবি গ্রামের বাসিন্দা তিনি।
কিছুদিন আগেই ব্রিগেডে সভা করে গিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। তবে ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পর আজই রাজ্য়ে প্রথম সভা করবেন প্রধানমন্ত্রী। কোচবিহারের রাসমেলার ময়দানে সভা করবেন তিনি। মোদির সভা উপলক্ষ্য়ে সকাল থেকেই সভাস্থলে আসতে শুরু করেছেন বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা। আজ কোচবিহারের রাসমেলা ময়দানে 'বিজয় সংকল্প সভা'য় যোগ দেবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ভোটের আগে কর্মী, সমর্থকদের চাঙ্গা করতেই এই প্রচার, সভা। এর আগে শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার দিন এসেছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। শুভেন্দু অধিকারীকে সঙ্গে নিয়ে বর্ণাঢ়্য রোড-শো-ও করেন তিনি।
এবার পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচন হবে ২ দফায়। প্রথম দফা ২৩ এপ্রিল। সেদিন ১৫২টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। দ্বিতীয় দফা ২৯ এপ্রিল। সেদিন ১৪২টি আসনে ভোট গ্রহণ করা হবে। আর ভোট গণনা ৪ মে। ইতিমধ্যেই পঞ্চম প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে বিজেপি। অনেক জায়গায় প্রার্থী নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁদের দাবি প্রার্থী বদলে ভূমিপুত্র/ভূমিকন্যা, অর্থাৎ এলাকার বাসিন্দাদেরই টিকিট দেওয়া উচিত। এই নিয়ে বেশ কয়েকবার ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিজেপি কর্মী সমর্থকরা।
