কলকাতা: রামনবমীর মিছিলে হামলা-পাল্টা হামলার অভিযোগে রণক্ষেত্র মুর্শিদাবাদের জঙ্গিপুর। ইটবৃষ্টি, লাঠি-বাঁশ হাতে সংঘর্ষ, ভাঙচুর থেকে অগ্নিসংযোগ, গতকাল উত্তপ্ত এলাকা। সংঘর্ষে আহত হয়ে মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অন্তত ৪০ জন।
আজ সকাল থেকে এলাকার পরিস্থিতি থমথমে। জানা গিয়েছে, অশান্তির ঘটনায় ১ RSS নেতা সহ ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের তালিকায় রয়েছেন, RSS নেতা কিংশুক ভট্টাচার্য, হিন্দুত্ববাদী দলের নেতা বাবাই চক্রবর্তী।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত বাকিদের খোঁজেও তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। অশান্তিকাণ্ডে পুলিশের তরফে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা সহ একাধিক FIR। রঘুনাথগঞ্জ থেকে শুরু করে ফুলতলা মোড় বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকায় মোড়ে মোড়ে কেন্দ্রীয় বাহিনী , রাতভর উপদ্রুত এলাকায় চলেছে পুলিশি টহল। এ ঘটনায় রাজ্য পুলিশের DG-র কাছে রিপোর্ট চেয়েছে নির্বাচন কমিশন।
এরই মধ্যে ভোটের আগে থানার OC-দের জন্য বিশেষ নির্দেশিকা নির্বাচন কমিশনের। থানার OC-দের নির্দেশিকা CEO-র। বলা হয়েছে, 'আগের নির্বাচনের সময় দায়ের হওয়া সমস্ত ফৌজদারি মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করতে হবে। সমস্ত জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করতে হবে।
নির্দেশে সাফ বলা হয়েছে, 'কোনও জামিনঅযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা ১০ দিনের বেশি ফেলে রাখা যাবে না। থানাভিত্তিক সমস্ত ঘোষিত পলাতক ও ওয়ান্টেড আসামির তালিকা তৈরি করে ব্যবস্থা নিতে হবে। অতীতে কোথায় রাজনৈতিক সংঘর্ষ, বিক্ষোভ বা গোলমালের ইতিহাস রয়েছে, তা চিহ্নিত করতে হবে। কারা সম্ভাব্য গোলমালকারী, তা চিহ্নিত করে আগাম ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটের প্রচারে আসা হুমকির মুখে থাকা VIP বা নিরাপত্তাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। হোটেল, সরাইখানা, ধর্মশালা ইত্যাদি জায়গায় নিয়মিত তল্লাশি চালাতে হবে'।
এমনকী, 'পর্যবেক্ষক, নির্বাচন আধিকারিকদের সফরের সময় তাঁদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনী অপরাধ বা আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত ঘটনার খবর পেলেই ঘটনাস্থলে দ্রুত যেতে হবে', থানার OC-দের জন্য বিশেষ নির্দেশ নির্বাচন কমিশনের। 'নির্বাচন সংক্রান্ত কাজে যুক্ত সমস্ত আধিকারিক নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণাধীন। কমিশনের নির্দেশ অক্ষরে অক্ষরে মানতে হবে। কোনওরকম অবহেলা হলে তা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হবে', কর্তব্যে গাফিলতি হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নির্দেশিকায় উল্লেখ।
