কেন্দ্রীয় বাহিনী, পুলিশ অবজার্ভার, জেনারেল অবজার্ভার থেকে রাজ্য পুলিশের কড়া নিরাপত্তায় মোটের উপর শান্তিপূর্ণভাবেই মিটেছে দু দফার ভোট। দুই দফায় গড় ভোটদানের হার ৯২ শতাংশ ছাড়িয়েছে।  এবার রেজাল্টের অপেক্ষা। কে কত নম্বর পাবে? কোন দল পশ্চিমবঙ্গের মসনদে বসবে? জনতার রায় কার পক্ষে? ৪ মে EVM খুললেই তা জানা যাবে। তবে এরই মধ্যে একাধিক বুথে EVM কারচুপির অভিযোগ এসেছে ইলেকশন কমিশনের কাছে। কয়েকটি জায়গা থেকে ইভিএম চুরির অভিযোগও এসেছে। এই পরিস্থিতিতে আরও কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে কমিশন।

Continues below advertisement

এবার স্পটে গিয়ে আরও কড়া  স্ক্রুটিনি করার নির্দেশ দিয়েছেন জ্ঞানেশ কুমার।  রিটার্নিং অফিসার / পর্যবেক্ষকদের নিয়ে বসে স্ক্রুটিনি করবেন বিশেষ পর্যবেক্ষক সুব্রত গুপ্ত।  সূত্রের খবর, ফলতা, মগড়াহাট, সোনারপুরের একাধিক বুথ থেকে একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনের দফতরে।  অভিযোগগুলির সত্যতা যাচাই করে রি-পোলের সিদ্ধান্ত নেবে কমিশন। সকালেই ফোনে এই নির্দেশ দেন জ্ঞানেশ কুমার। নির্দেশ পেয়ে ডায়মন্ডহারবারে যান বিশেষ পর্যবেক্ষক।  তার সামনেই হবে স্ক্রুটিনি। জ্ঞানেশ কুমারের নির্দেশ পেয়েই ডায়মন্ডহারবার যাচ্ছেন সুব্রত গুপ্ত। 

বুধবার ভোট শেষের পর মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল বলেন, তিনি যেখান যেখান থেকে অভিযোগ পয়েছেন, টেপ পাওয়া গিয়েছে, সেখানকার ওয়েব কাস্টিং দেখে তিনি কড়া সিদ্ধান্ত নেবেন। কমিশন জানিয়ে দিয়েছে এই বিষয়ে  জিরো টলারেন্সে পদক্ষেপ করা হবে। কমিশনের তরফে জানানো হয়েছে,  মোট ৭৭ টি গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। এই ৭৭টি অভিযোগের মধ্যে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে অভিযোগ এসেছে ৩২ টি। মগরাহাট বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ১৩ টি অভিযোগ এসেছে। ডায়মন্ড হারবার বিধানসভাকেন্দ্র থেকে ২৯ টি অভিযোগ এসেছে। বজবজ থেকে এসেছে ৩ টি।   

Continues below advertisement

দ্বিতীয় দফায় কলকাতা-সহ যে ৭ জেলায় ভোট হয়েছে, তার মধ্যে সর্বাধিক ভোট পড়েছে পূর্ব বর্ধমানে। ৯৩ দশমিক ৭৯% । জেলার চার জায়গায় রয়েছে স্ট্রংরুম। চৌঠা মে ফল ঘোষণা। ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তার ঘেরাটোপে রাখা হয়েছে EVM. স্ট্রংরুমের বাইরে রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী। গেটের বাইরেও রয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও সশস্ত্র রাজ্য পুলিশ। গোটা চত্বর সিসি ক্যামেরায় মোড়া। স্ট্রংরুমের সিসি ক্যামেরার মনিটর বসানো হয়েছে বাইরে। সেখানে যে কোনও রাজনৈতিক দলের প্রার্থী বা কর্মীরা যে কোনও সময় নজরদারি করতে পারবেন।

রাজ্যবাসীর রায় কোন দিকে যেতে পারে, তা নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। তার মধ্যেই বিভিন্ন দিক থেকে আসছে ভোট হিংসার অভিযোগও। এই পরিস্থিতিতে ৪ মে ফল কোনদিকে গড়ায় সেটাই দেখার। 

 

আরও পড়ুন :  'একদল লাইসেন্সপ্রাপ্ত গুণ্ডা' কেন্দ্রীয় বাহিনীকে শাণিত আক্রমণ, উদয়নারায়ণপুরের বুথে বৃদ্ধ-মৃত্যু নিয়ে বিস্ফোরক অভিষেক