ব্রিগেডে হাই ভোল্টেজ সভা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। সেই সভায় নরেন্দ্র মোদির আগেই বক্তব্য রাখলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর কথার শুরুতেই উঠে এল করোনার সময় ভারতের পৃথিবীর একাধিক দেশকে ভ্যাকসিন পাঠানোর কথা। দেশের ১২০ কোটি মানুষকেও যে সেই সময় ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছিল সেই কথাও মনে করালেন তিনি।
এডিনের সভায় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে পৃথিবীর জনপ্রিয়তম রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, কেন্দ্র সরকার এখনও দেশের ৮০ কোটি মানুষকে বিন পয়সায় রেশন দেয়। "২০১৬ সাল থেকে ৩০০ বিজেপি কর্মীর রক্তের উপর দিয়ে চলে আমরা এই ব্রিগেডে পৌঁছেছি", এদিন বলেন শমীক। "২০২৬-এর নির্বাচন, তৃণমূলের বিসর্জন", এই লক্ষ্য নিয়েই আজ ব্রিগেডে এসেছেন, বলেন তিনি।
ব্রিগেড নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তাঁর মুখে শোনা যায়, একসময় এই ব্রিগেড থেকেই সিপিআইএম ডাক দিত "দিল্লি চলো"। কিন্তু আজ সেই পার্টিই ডাক দিয়েছে "মুর্শিদাবাদ চলো"। "কী আছে মুর্শিদাবাদে? ওখানে হুমায়ুন আছে, বাবর আছে", কটাক্ষ শোনা যে শমীক ভট্টাচার্যের মুখে। "কতদিন চলবে এই রাজনীতি?" প্রশ্ন তোলেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি।
এদিন তাঁকে বলতে শোনা যায়, "পশ্চিমবঙ্গ কোনও ধর্মশালা নয়, আমরা এই দেশের মানুষকেই এই দেশে রাখব। ভোটার লিস্টে রাখব"। তারপরই তিনি বলেন, "পুরো পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী জেলার জনবিন্যাস বদলে দিয়েছে। শুধু বাংলা বদলায়নি। বদলে গিয়েছে বনাঞ্চল, বদলে গিয়েছে সীমাঞ্চল। ভারতবর্ষের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা অনুপ্রবেশের মধ্যে দিয়ে ধ্বংস করে দিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস"।
শমীক ভট্টাচার্যকে অভিযোগ করতে শোনা যায় পশ্চিমবঙ্গে সংবিধান আক্রান্ত বলে। এর পর তিনি বলেন, "এখানে রাজ্যপাল আক্রান্ত, গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা আক্রান্ত, বিরোধী দলনেতা, বিজেপি কর্মী আক্রান্ত। এর রাষ্ট্রপতিকেও বাদ দেয়নি। তাঁর চেহারা নিয়েও অন্য কথা বলছেন। আর আজ জঙ্গলমহলের মানুষও বলে দিয়েছে, হিথায় তোকে মানাইছে না রে"।
তিনি এদিন বলেন, পৃথিবীর কোনও শক্তি তৃণমূলকে আটকে রাখতে পারবে না। "তৃণমূল যাবে, তৃণমূল চলে গিয়েছে", মঞ্চ থেকে বলেন তিনি। তাঁর গলায় আত্মবিশ্বাস ঝরে পড়ে। তিনি বলেন, "তৃণমূলের বিদায় নিশ্চিত। তৃণমূল শেষ। তৃণমূল পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতায় ফিরছে না"।
"গঙ্গোত্রী থেকে গঙ্গাসাগর, মোদিজির নেতৃত্বে তৈরি হবে ডাবল ইঞ্জিন সরকার। শ্যামপ্রসাদের মাটিতে, শ্যামপ্রসাদের সরকার তৈরি হতে চলেছে। এটা কালের দেওয়াল লিখন। যা কেউ বদল করতে পারবে না", বলে বক্তব্য শেষ করেন বঙ্গ বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।
