শিলিগুড়ি: বিপুল ভোটে শিলিগুড়ি বিধানসভা কেন্দ্র থেকে জয়ী হলেন বিজেপির শঙ্কর ঘোষ। বিপুল ভোটে তিনি হারিয়ে দিলেন শিলিগুড়ির তৃণমূল কংগ্রেস প্রার্থী গৌতম দেবকে। প্রায় ৬২ হাজারের কাছাকাছি ভোটে তৃণমূল প্রার্থীর থেকে এগিয়ে জয় ছিনিয়ে নিয়েছেন বিদায়ী বিধায়ক। বঙ্গে এল পরিবর্তন। আর উত্তরবঙ্গে কার্যত 'প্রত্যাবর্তন'। উত্তরের শক্ত ঘাঁটি আরও মজবুত হল বিজেপির।
আলিপুরদুয়ার থেকে কোচবিহার। জলপাইগুড়ি থেকে দার্জিলিং, কালিম্পং, কার্যত খড়কুটোর মতো উড়ে গেল তৃণমূল। মালদা ও দুই দিনাজপুরেও ভাল ফল করল বিজেপি। সব মিলিয়ে, উত্তরবঙ্গের ৮ জেলার ৫৪টি বিধানসভা কেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশই নিজেদের দখলে রাখল বিজেপি যেখানে ২০২১-এর বিধানসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গের ৫৪টি কেন্দ্রের মধ্যে বিজেপি ৩০ টি আসনে জিতেছিল ও তৃণমূল ২৩ এবং নির্দল জিতেছিল ১টি আসনে। আবার ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনের বিধানসভা ভিত্তিক ফল অনুযায়ী বিজেপি এগিয়ে ছিল ৩২টি আসনে, তৃণমূল ১৫ এবং বাম-কংগ্রেস জোট এগিয়ে ছিল ৭টি আসনে।
চলতি বছরের বিধানসভা নির্বাচনে বাংলায় মোট ২ দফায় নির্বাচন হয়েছিল। গত মার্চ মাসের ১৫ তারিখ ভোট ঘোষণা করে ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission Of India)। আর নির্বাচন কমিশনের নির্ঘণ্ট মেনে গত ২৩ এপ্রিল প্রথম দফার নির্বাচন হয় পশ্চিমবঙ্গে। সেই দফায় ১৬ জেলার ১৫২ কেন্দ্রে হয় ভোট গ্রহণ। ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন প্রায় ৩ কোটি ৬১ লক্ষ মানুষ। দ্বিতীয় দফার ভোট গ্রহণ হয় ২৯ এপ্রিল, বুধবার। সেই দফায় নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন রাজ্যের ৭ জেলার ১৪২ কেন্দ্রের ভোটার। অবশেষে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের ভোট গণনা আজ ৪ মে হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বিধানসভা ভোটের আগে সিপিএম থেকে দল বদলে যান বিজেপিতে। তারপরই ভোটের টিকিট এবং একদা রাজনৈতিক গুরু অশোক ভট্টাচার্যকে হারিয়ে বিধানসভায়। এবারেও শিলিগুড়ি আসনে শঙ্কর ঘোষের ওপরই ভরসা রেখেছিল বিজেপি। উল্টোদিকে রয়েছেন তৃণমূলের হেভিওয়েট প্রার্থী শিলিগুড়ির মেয়র গৌতম দেব।
প্রচারের সময় থেকেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। কখনও গুরুদ্বারে গিয়ে জনসংযোগ সেরেছেন, সেখানে লঙ্গরে খাবার খাচ্ছেন কখনও এলাকায় ঘুরে ঘুরে কথা বলছেন স্থানীয়দের সঙ্গে। ভোটারদের সঙ্গে সেলফিও তুলছেন। প্রচারের আগেই উত্তরবঙ্গের উন্নয়ন প্রসঙ্গে বিজেপি প্রার্থী জানিয়েছিলেন, 'বিজেপি সংকল্প পত্রে উত্তরবঙ্গের জন্য যা বলেছে এগুলোই আমার স্বপ্ন ছিল। আমার স্বপ্নের অনেকটাই এবার পূরণ করে দিয়েছে সংকল্প পত্রে। এবার শুধু এক্সিকিউট হওয়ার অপেক্ষা।'
