কলকাতা : ফের ভয়ঙ্কর হত্যা পশ্চিমবঙ্গে! শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়ককে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। মধ্যমগ্রামে গাড়ি থামিয়ে গুলি করা হয় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েও চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করে। আহত হয়েছেন শুভেন্দু অধিকারীর আপ্ত সহায়কের গাড়ির চালকও। তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় কলকাতার বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। কিন্তু কেন এই খুন? বহু প্রশ্ন তৈরি হয়েছে মানুষের মনে। সরাসরি আঙুল তৃণমূলের দিকে।
বরাত জোরে ড্রাইভার বেঁচে গেলেও মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লেন চন্দ্রনাথ। ঘটনার পর শোরগোল পরে যায় রাজ্য রাজনীতিতে। সরাসরি তৃণমূলের দিকে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। কৌস্তভ বাগচী জানান, 'মোটরসাইকেলে করে বেশ কিছুক্ষণ ধরে গাড়ি ফলো করা হয়, তারপরই এইভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়। এর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরিভাবে জড়িত। যতক্ষণ না দোষীদের ধরা হচ্ছে, আমরা মৃতদেহ দাহ করব না।' 'কাউকে ছাড়া হবে না। আমরা এতদিন বাংলায় ভদ্রতা, শৃঙ্খলার রাজনীতি করে এসেছি। এই ঘটনার পরিনাম তৃণমূলকে ভুগতে হবে। চন্দ্র দা-কে যেভাবে খুন করা হলো, আমার কিন্তু ছেড়ে কথা বলব না।'
এই ঘটনা নিয়ে তৃণমূলও প্রতিক্রিয়া জানায় এবং ঘটনার তীব্র নিন্দা করে। তৃণমূল কংগ্রেস তাদের এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করে জানায়, ''আদর্শ আচরণবিধি বলবৎ থাকা সত্ত্বেও, গত তিন দিন ধরে বিজেপি-সমর্থিত দুষ্কৃতকারীদের দ্বারা হওয়া নির্বাচন-পরবর্তী হিংসার ঘটনায় আরও তিনজন তৃণমূল কর্মীর হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি, আজ রাতে মধ্যমগ্রামে চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের আমরা তীব্র নিন্দা জানাই। আমরা এই ঘটনার কঠোরতম পদক্ষেপের দাবি জানাচ্ছি। এই ঘটনা নিয়ে সিবিআই তদন্ত করা হোক, যাতে দোষীদের শনাক্ত করে অবিলম্বে তাদের বিচার বিভাগের আওতায় আনা যায়। গণতন্ত্রে সহিংসতা ও রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ডের কোনও স্থান নেই এবং দোষীদের যত দ্রুত সম্ভব শাস্তি দিতে হবে।''
