কলকাতা:বিধানসভা নির্বাচনের আগে ফের এক 'স্টিং অপারেশন'। আর তাতেই তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি। হুমায়ুন কবীরের একটি ভিডিও 'ফাঁস' করেছে তৃণমূল, যাতে একের পর এক বিস্ফোরক দাবি করতে শোনা গিয়েছে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রধান হুমায়ুনকে। বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগের কথা মেনে নিয়েছেন তিনি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে নিজের কথোপকথন তুলে ধরেছেন, দিল্লি গিয়ে বিজেপি নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের কথাও জানিয়েছেন। দিনভর সেই নিয়ে চর্চার মধ্যে এবার মুখ খুললেন শুভেন্দু। (Suvendu Adhikari on Humayun Kabir)
বৃহস্পতিবার হুমায়ুনের ওই ভিডিও 'ফাঁস' করে তৃণমূল। এবিপি আনন্দ ওই ভিডিও-র সত্যতা যাচাই করেনি। তবে সেটিই এখন রাজ্য রাজনীতিতে জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে। তাঁকে নিয়ে হুমায়ুনকে যা বলতে শোনা গিয়েছে, এবার তা নিয়ে মুখ খুললেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, "আমার কথা ছেড়ে দিন। মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী, PMO-র কথা হলা হয়েছে। মধ্যপ্রদেশ সরকারেরও উচিত বিশেষ তদন্ত দেওয়ার।" (Humayun Kabir Video)
ভিডিওটি সামনে আসার পর পরই সেটির সত্যতা অস্বীকার করেন হুমায়ুন। ভিডিওটি AI দিয়ে বানানো বলে দাবি করেন তিনি। এবিপি আনন্দের মুখোমুখি হয়ে বলেন, "আমি কী এমন শক্তিশালী ব্যক্তি যে আমাকে মধ্য়প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী মোহন যাদব টাকার অফার দেবে? এসব মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ফিরহাদ হাকিম, কুণাল ঘোষের।"
যদিও ওই ভিডিও-য় হুমায়ুনের মুখে বার বার শুভেন্দু, মোহন এবং PMO-র কথা শোনা গিয়েছে। এমনকী নীতীশ কুমারের মতো ১০০০ কোটি টাকার মধ্যে ৩০০ কোটি নিজে রেখে দেবেন বলতেও শোনা যায় তাঁকে। খোদ শুভেন্দু অধিকারী তাঁকে দিল্লি যাওয়ার প্রস্তাব দেন, বিজেপি-র কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করিয়ে যাওয়ার প্রস্তাব দেন বলে জানান। দিল্লিতে মোহনের সঙ্গে সাক্ষাতের কথা জানান। পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র সরকার হলে তাঁকে উপমুখ্য়মন্ত্রী করা নিয়েও কথা হয়েছে বলে জানান হুমায়ুন। এমনকি প্রকাশ্যে পরস্পরকে আক্রমণ করলেও, তলে তলে শুভেন্দুর সঙ্গে তাঁর কথা হয়ে রয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তৃণমূলের সঙ্গ ছাড়ার পর বেলডাঙায় বাবরি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণার দরুণ জাতীয় স্তরেও খবরের শিরোনামে উঠে আসেন হুমায়ুন। ভিডিও-য় সেই বাবরি মসজিদ নিয়েও বিস্ফোরক মন্তব্য করেন হুমায়ুন। জানান, বাবরি মসজিদের সঙ্গে মুসলিম সমাজের আবেগ জড়িয়ে রয়েছে। তাই অন্য নাম নয়, বাবরের নামে মসজিদ গড়ার ঘোষণাই করেন তিনি। মুসলিমরা সাদাসিধে, তাঁদের বোকা বানানো সহজ বলেও মন্তব্য করতে শোনা যায় হুমায়ুনকে। সেই নিয়েও তাঁকে তীব্র আক্রমণ করেছে তৃণমূল।
