কলকাতা : ভোটের মুখে বেফাঁস মন্তব্য দিলীপ ঘোষের। SIR প্রক্রিয়ায় বড় পড়েছেন যে সব ভোটার, তাঁদের 'দেশদ্রোহী' বলে বিতর্কে জড়ালেন খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী। আর এবার দিলীপ ঘোষকে চাঁচাছোলা আক্রমণ তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতি জয়প্রকাশ মজুমদারের। "এর পর আপনাকে সাবধানে থাকতে হবে দিলীপ বাবু", হুঁশিয়ারি শোনা গেল জয়প্রকাশ মজুমদারের মুখে।
যাঁদের নাম বাদ পড়েছে ভোটার তালিকা থেকে তাঁদের 'দেশদ্রোহী' বলে বিতর্ক তৈরি করেছেন দিলীপ ঘোষ। এবার দিলীপ ঘোষের দিকে প্রশ্ন ছুঁড়ে দিলেন জয়প্রকাশ মজুমদার। তিনি বলেন, "তাঁদের ভোট দিলীপ বাবু নির্বাচিত হননি? মোদি নির্বাচিত হননি? আগে নিজেদের কথা ভাবুন। মোদিকে পদত্যাগ করতে বলুন।" এর পর তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আর আর দেশদ্রোহী কাদের বলছেন? দেশের লোককে। বয়স্ক মানুষ, গরিব মানুষ, মহিলারা ছেলে মেয়ে কোলে লাইনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। তাদের দেশদ্রোহী বলছেন?"
তারপরই দিলীপ ঘোষকে সাবধান করতে শোনা যায় তৃণমূলের রাজ্য সহ সভাপতিকে। "এর পর সাবধানে থাকতে হবে দিলীপ বাবু আপনাকে। ছিঃ ছিঃ ছিঃ ছিঃ। আজ নির্বাচন কমিশনকে নিয়ে এসে নির্বিচারে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়ে বাংলাকে সবক শেখাতে যাচ্ছেন? বাংলা জানে কীভাবে নিজেদের সম্মান রাখতে হয়। কীভাবে নিজেদের অধিকার রাখতে হয়। বাংলার মানুষ সেই গণতান্ত্রিক অধিকার রাখবে।"
এর পরই হুঁশিয়ারি দিতে শোনা যায় জয়প্রকাশ মজুমদারকে। দিলীপ ঘোষের উদ্দেশে তিনি বলেন, "জ্ঞানেশ কুমারকে আশ্রয় করে আপনি বাঁচতে পারবেন না। দিলীপ বাবু কান খোলা রেখে শুনে নিন। বাংলার মানুষ ক্ষেপে গিয়েছে। বিজেপিকে দেখলেই তাদের মনে একটা আক্রোশ তৈরি হচ্ছে।"
কিন্তু সঠিক কী বলেছেন দিলীপ ঘোষ? খড়গপুরের একটি নির্বাচনী জনসভা থেকে দিলীপ ঘোষ বলেন, "৯০ লাখ গিয়েছে। আরও ১০ থেকে ১২ লাখ যাবে। এই ভুয়ো ভোটারের জোরে ৩ বার মুখ্যমন্ত্রী হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং ৩৪ বছর সিপিএম ছিল। এই যে দেশদ্রোহী, দেশবিরোধীদের বিদায় হয়েছে। এজন্যই দেশের যে উন্নয়নের ঢেউ, সেটা এবার পশ্চিমবঙ্গেও আসবে।"
যদিও দিলীপ ঘোষকে পাল্টা আক্রমণ করেছেন খড়গপুর সদরের তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। তিনি বলেন, "দিলীপবাবুর মন্তব্য থেকে বিজেপির চরিত্র পরিষ্কার। বাদ যাওয়া ৯০ লক্ষের মধ্যে ৫৭ লক্ষ হিন্দুর নাম রয়েছে। উনি সেই হিন্দুদেরই দেশদ্রোহী বলছেন?" এর পরই তিনি প্রশ্নও তোলেন যে, "এই বিজেপি, এই দিলীপ ঘোষকে কেউ বিশ্বাস করবে?"
