কলকাতা: ভোটের আগে বরানগরে তুলকালাম, ৫ বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের। ৫ বিজেপি কর্মীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের তৃণমূলের তরফে। গতকাল শনিবার গোপাল লাল ঠাকুর রোডে বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষ বাঁধে। তৃণমূল প্রার্থী সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোর্ডিং লাগানো ঘিরে সংঘর্ষ হয় বলে জানা গিয়েছে। সেই এলাকার বিজেপি প্রার্থী সজল ঘোষের সঙ্গে তৃণমূল কর্মীদের বচসা হয়। সায়ন্তিকাকে গো-ব্যাক স্লোগানও দেন সজল ঘোষ। পাল্টা স্লোগান দেওয়া হয় তৃণমূলের তরফে। বহিরাগতদের এনে তৃণমূলকর্মীদের ওপর হামলা করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তুলেছেন সায়ন্তিকা। তৃণমূলের বিরুদ্ধে পাল্টা হামলার অভিযোগ এনেছেন সজল ঘোষ। বিজেপির হোর্ডিং খুলে নিজেদের হোর্ডিং লাগিয়েছে তৃণমূল, পাল্টা জানিয়েছেন সজল ঘোষ।

Continues below advertisement

উল্লেখ্য, আগেরবার নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবারও তাঁকেই তৃণমূল প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আবার আগেরবার বিজেপির হয়ে দাঁড়িয়ে এই সায়ন্তিকার বিরুদ্ধে হারলেও ফের সজল ঘোষকেই প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে বিজেপিও। প্রার্থী ঘোষণার পর দু'দলই প্রচারে নেমে পড়েছে। এই আবহে এদিন ঝামেলা বাধে গোপাল লাল ঠাকুর রোডের ওপর সজল ঘোষের এই নির্বাচনী কার্যালয়ের সামনে। বুধবার এই কার্যালয়ে ঢোকার মুখে তাদের একটি অস্থায়ী তোরণ তৈরি করা হয়। তাতে সজল ঘোষের হোর্ডিংও লাগানো হয়। অভিযোগ, শনিবার দুপুরে তা সরিয়ে, সেখানে সমান মাপের সায়ন্তিকা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হোর্ডিং লাগিয়ে দেয় তৃণমূল কর্মীরা।

বিজেপির বরানগর মণ্ডলের সম্পাদক রাজীব রায় জানান, ''কাঠের তোরণ বিজেপিই তৈরি করেছে। সেখানে সজল ঘোষের ফ্লেক্স লাগানো হয়। ১৮ তারিখ রাতে।আজকে দুপুরে বিজেপির কর্মিসভা ছিল। এলাকা ফাঁকা ছিল। এই সময়ে তৃণমূলের লোকজনের লোক এসে সমান মাপের সায়ন্তিকার ফ্লেক্স লাগিয়ে দেয়।'' যদিও পাল্টা বরানগর পুরসভার ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূলের কাউন্সিলর বিশ্বজিৎ বর্ধন বলেন, ''৮ তারিখ এই স্ট্রাকচারটা লাগিয়েছিলাম আজকে (শনিবার) ফ্লেক্সটা লাগাব বলে। ওরা (বিজেপি) কালকে রাতের অন্ধকারে, ফ্লেক্সটা লাগিয়েছে। স্ট্রাকচার আমরা লাগাব, ওরা (বিজেপি) কি এসে ফ্লেক্স লাগাবে? এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করছি। আমাদের ক'জন মহিলাকে আহত করেছে।''

Continues below advertisement

এদিকে, এই ঘটনার পরই স্থানীয় পুলিশ এসে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে দু পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি তখনও চলছিল। এরপরই এদিন সকালে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বিজেপির পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়।