ভাস্কর মুখোপাধ্যায়, বীরভূম: আশঙ্কাই যেন সত্যি হল। অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটের লক্ষ্যে একের পর এক কড়া পদক্ষেপ করেছে নির্বাচন কমিশন। বুথের চারপাশে ১০০ মিটার পর্যন্ত কার্যত 'লক্ষ্মণরেখা' তৈরি থেকে সিসিটিভি, বিশাল কেন্দ্রীয় বাহিনী পুলিশ মোতায়েন কেন্দ্রে কেন্দ্রে। কিছু শেষরক্ষা হল না । ভোটে পশ্চিমবঙ্গে রক্ত ঝড়লই।  প্রথম দফার ভোটে রক্তাক্ত হল বীরভূমের লাভপুর। মাথা ফাটল বিজেপি প্রার্থী দেবাশিস ওঝার এজেন্টের। আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থীর এজেন্ট বিশ্বজিৎ মণ্ডল।

Continues below advertisement

অন্যদিকে এই মুরারইয়ে ভোট চলাকালীন কংগ্রেস-তৃণমূল সংঘর্ষ হল প্রথম দফার ভোটেই। মুরারই বিধানসভার গোরসা পঞ্চায়েতের ৩১ নম্বর বুথের ঘটনা। ২ কংগ্রেস কর্মীকে বেধড়ক মারধরের অভিযোগ তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ২ জনের মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। আহতদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে । 

যদিও এদিন কৃষ্ণনগরের সভা থেকে নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, '৫০ বছরে এমন সন্ত্রাস-মুক্ত ভোট দেখিনি, শান্তিপূর্ণ ভোট করাতে সফল কমিশন। পশ্চিমবঙ্গে পরিবর্তনের আঁধি চলছে, এই উৎসাহ ভরসার, বিদায় নিচ্ছে ভয়'। সভায় তৃণমূলকেও নিশানা প্রধানমন্ত্রীর।                             

Continues below advertisement

পশ্চিমবঙ্গে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব রকম পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলে বার বার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। প্রতি বুথে নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ২৩ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে প্রথম দফার ভোটে রেকর্ড সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশ মোতায়েন করছে নির্বাচন কমিশন। উত্তরবঙ্গ থেকে দক্ষিণবঙ্গ কোথাও নিরাপত্তার খামতি রাখতে চাইছে না তারা। প্রথম দফার ভোটে ২ হাজার ৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন ছিল। প্রথম দফার ভোটে সবচেয়ে বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে মুর্শিদাবাদে। কিন্তু সেই মুর্শিদাবাদেই অশান্তির ঘটনা ঘটল। 

এদিকে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বুধবার কলকাতা পুরসভার কনফারেন্স রুমে হাই লেভেল রিভিউ মিটিং করেছিলেন সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ডিআইজি সিআরপিএফ, বিএসএফ-এর সেকেন্ড ইন কমান্ড কলকাতার পুলিশ কমিশনার, জেনারেল অবজার্ভার, আয় ব্যয় অবজার্ভার এবং পুলিশ অবজার্ভার সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। কলকাতা উত্তর নির্বাচনী জেলার অন্তর্গত মোট ১৮৩৫ টি বুথের নির্বাচনী ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বৈঠক হয় কলকাতা পুরসভার কনফারেন্সে হলে।