কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গে ভোটদানের সর্বাধিক রেকর্ড হয়েছে। রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটের পর সিইও দফতরে সংবাদিক বৈঠক করলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল। তিনি বললেন, ''আপনারা সবাই দেখেছেন সারাদিন যে পুরোপুরি শান্তিপূর্ণভাবেই ভোটদান প্রক্রিয়া চলেছে। কিছু কিছু জায়গায় অশান্তি হয়েছে। কিন্তু সেগুলো বুথের বাইরেই দেখা গিয়েছে। বড় কোনও ঘটনা প্রথম দফায় হয়নি। ভয়ডরহীন ভাবে ভোটপর্ব হয়েছে এবার।'' এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাজ্যে ভোট পড়ার শতাংশ ৯২ শতাংশ হয়ে গিয়েছে। এছাড়াও আরও প্রায় পাঁচ হাজার ভোটে পোলিং চলছে। অর্থাৎ আরও ২-৩ ঘণ্টা লাগবে মোট সংখ্য়াটা কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় তার দিকে।
এবার রাজ্যে ভোটের ময়দানে সেই রক্ত ঝরল, সেই হামলা চলল, সেই গাড়ি ভাঙল, সেই বিরোধী এজেন্টের মাথা ফাটল, সেই বৈধ ভোটার, ভোট দিতে গিয়ে দেখলেন তাঁর ভোটটা আগেই পড়ে গেছে, এমনকী রাস্তায় দৌড় করিয়ে, দফায়-দফায় মারধর করা হল কুমারগঞ্জের প্রার্থীকে। তবে সামগ্রিকভাবে চূড়ান্ত সক্রিয় থাকল নির্বাচন কমিশন, কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং পুলিশবাহিনী। দিনভর কোথাও অশান্তি হলেই অ্যাকশন হল, প্রত্যেকটা ঘটনার রিয়্যাকশন থাকল ন্যূনতম, বুথের মধ্যে কার্যত মাছি গলতে পারল না। এবং সবথেকে বড় কথা, দিনের শুরু থেকে শেষপর্যন্ত রেকর্ড সংখ্যক মানুষ, নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করলেন। গণতন্ত্রের মূল উদ্দেশ্যটা, প্রথম দফায় অন্তত, ষোলোটা জেলার, একশো বাহান্নটা বিধানসভায়, উতরে গেল।
এদিন, মোটের ওপর শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও কিছু কিছু জায়গায় অশান্তির ছবি ধরা পড়েছিল। ময়নার বাকচার গোড়ামহল বুথের সামনে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ উঠল তৃণমূল প্রার্থীর বিরুদ্ধে। ফের বিক্ষোভের মুখে পড়লেন সেখানকার তৃণমূল প্রার্থী চন্দন মণ্ডল। তৃণমূল প্রার্থীকে লক্ষ্য করে 'চোর চোর' স্লোগান দিলেন স্থানীয়দের একাংশ। তৃণমূলের দাবি, পরিকল্পিতভাবে বিক্ষোভ দেখিয়েছে বিজেপি। পরবর্তীকালে কেন্দ্রীয় বাহিনী আসতে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। আবার মাথাভাঙার বিজেপি প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের বিরুদ্ধে টাকা বিলির অভিযোগ তুলল তৃণমূল। তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মনের অভিযোগ, সকাল থেকে কোচবিহার টি এস্টেটের বাসিন্দাদের টাকা বিলি করছিলেন নিশীথ প্রামাণিক। পরবর্তীকালে তৃণমূল প্রার্থীর নেতৃত্বে নিশীথ প্রামাণিককে ঘিরে বিক্ষোভ দেখানো হয়। অন্যদিকে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা তৃণমূলের বিরুদ্ধে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগ তুললেন নিশীথ প্রামাণিক। আবার কুমারগঞ্জে বিজেপি প্রার্থীকে চড়-কিল, ঘুষি খেতে হয়েছে, অভিযোগ উঠেছিল তৃণমূলের দিকে।
