নয়াদিল্লি: বিনা অনুমতিতে হরমুজ প্রণালী পেরিয়েছিল বলে অভিযোগ। দু’টি জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেছে ইরান, যার মধ্যে একটি ভারতের। এবার সেই রুদ্ধশ্বাস অভিযানের ভিডিও সামনে এল, যাতে মাস্ক পরিহিত কম্যান্ডোদের জাহাজে উঠে আসতে দেখা গিয়েছে। ইরানের তরফেই ভিডিওটি প্রকাশ করা হয়েছে। (India Bound Ship Seized by Iran)

Continues below advertisement

বুধবার একতরফা ভাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদবৃদ্ধির ঘোষণা করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের দাবি ছিল, বার বার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়িয়ে আসলে বাড়তি সময় নিচ্ছে আমেরিকা, যাতে শক্তিবাড়িয়ে, অতর্কিতে হামলা চালাতে পারে তারা। সেই আবহেই বুধবার হরমুজে দু’টি জাহাজ বাজেয়াপ্ত করা হয়। (US-Iran War)

পানামার পতাকা লাগানো MSC Francesca এবং লিবারিয়ার পতাকা লাগানো Epaminondas জাহাজ দু’টি বাজেয়াপ্ত করে ইরান। MSC Francesca জাহাজটি দুবাই থেকে গুজরাতের মুন্দ্রা বন্দরে আসছিল। জাহাজ দু’টিকে টেনে ইরান উপকূলে নিয়ে যাওয়া হয়। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম কোনও জাহাজ বাজেয়াপ্ত করল ইরান।

Continues below advertisement

ইরানের তরফে যে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে, তা রীতিমতো শিউড়ে ওঠার মতো। দেখা গিয়েছে, স্পিড বোটে চেপে পণ্যবোঝাই জাহাজের দিকে রীতিমতো ধেয়ে আসছেন ইরানের কম্যান্ডোরা। এর আগে আমেরিকা দাবি করেছিল, ইরানের নৌবাহিনীকে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই ঘটনায় সেই দাবি ভুল প্রমাণিত হল। যদিও আমেরিকার আধিকারিকদেরে দাবি, ইরানের ‘Mosquito Fleet’ জাহাজ বাজেয়াপ্ত করেছে। রেভলিউশনারি বাহিনীর দ্বারা চালিত তারা। নৌকায় ঘুরে বেড়ায়। সহজে নাগাল মেলে না।

ভিডিও-য় দেখা গিয়েছে, মাস্ক পরিহিত কম্যান্ডোদের কাঁধে রাইফেল ঝুলছি। মই বেয়ে জাহাজে উঠে আসছেন তাঁরা। রাইফেল হাতে তল্লাশি চালান, ঢুকে পড়েন ইঞ্জিন রুমে। একজন উপরের ডেকে উঠে যান। ভারতগামী Epaminondas-এর উপর গুলিও চালানো হয়। স্পিডবোট থেকে ছোড়া হয় গ্রেনেডও। জাহাজকর্মীদের মধ্যে হতাহতের খবর নেই যদিও এখনও পর্যন্ত।

 MSC Francesca জাহাজটি ইরান উপকূল থেকে ৬ মাইল দূরে ছিল। সেটিকে লক্ষ্য় করেও গুলি চালানো হয়। রেভলিউশানারি বাহিনীর দাবি, দু’টি জাহাজের কাছেই হরমুজ পেরনোর অনুমতি ছিল না। হরমুজের শৃঙ্খলাভঙ্গ করলে, তার ফল মারাত্মক হবে বলে জানিয়েছে তারা।